গত ৫ অক্টোবর মিনার রয়্যাল প্যালেসে সারা বিশ্ব থেকে রাজকীয় মেহমান হিসেবে আগতদের থেকে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের সম্মানার্থে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুবরাজ সালমান বিন আব্দুল আযীয বাদশাহ'র পক্ষ থেকে দেয়া বাণী পড়ে একথা জানান।
বাদশাহ বলেন, হজ্জ হলো প্রকৃত জাতিসত্ত্বা অনুধাবনের অন্যতম আদর্শ। বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া প্রদর্শন এবং ইসলামী শরীয়াতের আলোকে সাম্য ও ন্যায় বিচারের প্রতীক।
তিনি আরো বলেন, মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর নির্মাণ করা হয়েছিলো তা তো বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত। তা বিশ্ববাসীর জন্য বরকতপূর্ণ ও পথনির্দেশ। গুনাহ করতে করতে মানুষের কলবের ওপর যে পাপের চিহ্নপড়েছে হজ্জ তা থেকে পবিত্র করে।
বর্তমান বিশ্বে সন্ত্রাসের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহবানও জানান তিনি। মুসলমান যুবকদেরকে তিনি ইসলামের আলোকে জীবন গড়ে এ সকল অপপ্রচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়বার আহবান জানান।
হাজী ভাই-বোনদের জন্য দু‘আ করে বলেন, সকলের হজ্ব যেন “হাজ্জে মাবরূর” হয় এবং তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়,সকলের দু‘আ যেনো কবুল হয় ও ব্যবসা যেনো বিফল না হয়, সবার হজ্জ,সকল প্রচেষ্টা ও কুরবানীকে আল্লাহ যেন কবুল করেন।
তিনি বলেন, নবী কারীম সা. বলেছেন, “একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের ভাই; তাকে কেউ অত্যাচার করবে না, অপমান-অপদস্থ করবে না, মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে না এবং তুচ্ছ জ্ঞান করবে না।” (সহীহ মুসলিম-৬৭০৬)
মহানবী সা. কা‘বা তাওয়াফ করার সময় বলেছেন,
“হে কা‘বা তুমি কত সুন্দর এবং তোমার ঘ্রাণ কত সুন্দর ! তুমি কত মহান ও তোমার মর্যাদা কত মহান! যেই সত্ত্বার হাতে মুহাম্মাদ সা.-এর জীবন, তার শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই মু’মিনের মর্যাদা আল্লাহর নিকট তোমার থেকেও বেশি। তেমনি ভাবে তার সম্পদ ও তার জীবন। তার ব্যাপারে আমি শুধু ভাল ধারণাই করি।”
এছাড়াও বর্তমান বিশ্বে যে হানাহানি হচ্ছে তার জন্য বিশ্বের সকল সংস্থারও সমালোচনা করেন তিনি।
সত্যিকারভাবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে তা রুখতে সোচ্চার হতে এবং শতধা বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে নিরাপত্তা, ঐক্য ও একই বাণীর নিচে সমবেত হয়েপরস্পর হানাহানি, কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে এবং ফিৎনার আগুনকে নিভিয়ে দিয়ে একঅশান্ত বিশ্ব গড়ার আহবান জানান তিনি।
ইআর





