জমে উঠেছে ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মাঠের পুষ্পমেলা। দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল দেখা এবং ফুলের চারা সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। মেলার ফুলের চারার বেচাকেনায় খুশি বিক্রেতারা। মাসব্যাপী এ পুষ্পমেলায় অর্ধকোটি টাকার ফুল গাছের চারা বিক্রির আশা করছেন আয়োজকরা। আগামী বছর থেকে পুষ্পমেলার পরিসর আরো বাড়বে বলে জানান পৌর মেয়র।

গোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া, কসমসসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল আর ফুল গাছের ব্যাপক সমারোহ ময়মনসিংহ শহরের টাউন হল মাঠের পুষ্পমেলায়। বাহারি সব ফুলের চোখ জুড়ানো এ মেলায় ফুলের চারা সংগ্রহ করতে মানুষের ভিড় থাকে সারাদিনই। বিভিন্ন জাতের ফুলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে শিশুদেরও মেলায় নিয়ে আসেন অভিভাবকেরা। ফুল গাছের সংগ্রহ এবং দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় খুশি দর্শনার্থীরা।

মেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, 'ফুলের মেলায় এসে আমরা খুব ভাল লেগেছে। আমি ডলিয়া, জবা, গাধা ফুল নিয়েছি।'

এছাড়াও কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছরই পরিবারের সঙ্গে আমি মেলা আসি। এবারও বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। এখানে এসে দেশি-বিদেশি অনেক ফুলের সম্পর্কে আমরা জানতে পারলাম। যে ফুলগুলো আমরা সচরাচর দেখি না সেইগুলো দেখতে পারছি।'

এদিকে মেলায় আশানুরূপ বেচাকেনা হওয়ায় খুশি নার্সারি মালিকরা। এবার মেলায় অর্ধকোটি টাকার ফুল গাছের চারা বিক্রি হবে বলে আশা তাদের।

মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মো.আবুল কাশেম রতন বলেন, 'আমরা আশা করতেছি, এবারের মেলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করতে পারবো।'

নার্সারি মালিকরা জানান, ডালিয়া, চন্দ্রা চন্দ্রমৌলিকা, সিলফিয়া, এনকা, গোলাপ খুব ভাল বেচা কিনা হচ্ছে। আর একেকটি ফুল নিচে ৫০ টাকা উপরে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।'

পৌর মেয়র জানালেন, আগামী বছর থেকে পুষ্প মেলার পরিসর আরো বাড়ানো হবে।

ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেকেই ফল-ফুলের নাম জানে না। আমরা তাদেরকে এইসব ফল-ফুলের সঙ্গে তাদের পরিচয় করে দিতে আমাদের এই উদ্দেশ্য।

নতুন প্রজন্মকে ফুলের সাথে পরিচিত করিয়ে দিতে ময়মনসিংহ পৌরসভার সহায়তায় নার্সারি মালিক সমিতি গত চার বছর ধরে এ পুষ্পমেলার আয়োজন করছে।

এসএম