ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু-তে দিনকয়েক আগেই দুটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে একটি জায়ান্ট পান্ডা। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই আমেরিকার ওই চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা শাবকের জন্ম হয়।

স্মিথসোনিয়ানের পান্ডা ওয়েবক্যামে প্রসবের পুরো ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়। প্রথম বাচ্চাটির জন্মের পরেই জু-র চিফ ভেটেরিনারিয়ান বা মুখ্য পশু-চিকিৎসক ডন নেইফার জানান, প্রসব হয়েছে একেবারে মসৃণভাবেই।

এর কিছুক্ষণ পর যে দ্বিতীয় শাবকটির জন্ম হয় তাকে অবশ্য ইনকিউবেটরে রাখতে হয়েছে বলে চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। তবে সেটিও স্বাস্থ্যবান, তাকে নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।

মজার ব্যাপার হল, মাত্র সপ্তাহখানেক আগেও কিন্তু স্মিথসোনিয়ান জু-র কর্তৃপক্ষ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি জায়ান্ট পান্ডা-টি গর্ভবতী।

দিনকয়েক আগে তার একটি রুটিন আলট্রাসাউন্ড করাতে গিয়েই ধরা পড়ে মেই শিয়াং নামে ওই মহিলা জায়ান্ড পান্ডাটি দুটি বাচ্চার জন্ম দিতে চলেছে।

জু-র অধিকর্তা ডেনিস কেলি বিবিসি-কে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলছিলেন, ‘পান্ডার ডেরায় আমরা যে হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরাটা বসিয়েছিলাম, তার সুবাদে যে জায়ান্ট পান্ডার জন্মটা আমি দেখতে পারলাম সে জন্য নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে করছি।’

তিনি আরও জানান, ‘বাচ্চাটা খুব খুব ছোট, কিন্তু গলার জোর ততোধিক। মাত্র চার-পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা একটা ছোট্ট শাবক, যার ওজন মাত্র ১০০ গ্রামের মতো – সে যে অত জোরে চেঁচাতে পারে না-দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না। এমন একটা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর জন্ম সত্যিই একটা দারুণ ঘটনা।’

কিন্তু চিড়িয়াখানায় দুটো জায়ান্ট পান্ডার জন্ম নিয়ে কেন এত উন্মাদনা আর দুনিয়াভর হই-চই?

এর প্রধান কারণ, জায়ান্ট পান্ডা শুধু বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীই নয় – বংশবৃদ্ধিতে তাদের উৎসাহ নেই বললেই চলে, আর চিড়িয়াখানার ভেতর তো নয়ই। সূত্র : বিবিসি।

কেএইচ