ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশকে আবারো নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করলো চীন। চীনের নতুন মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশকে নিজ ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেছে দেশটি। শনিবার নতুন প্রকাশ পাওয়া চীনের মানচিত্রে এমনটিই ফুটে উঠেছে।

দু’দেশেই নেতৃত্বের পালাবদল হয়েছে। নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার উদ্যোগও শুরু হয়েছে। কিন্তু, বিরোধের মৌলিক জায়গা থেকে চীন যে এতটুকুও সরেনি তারই প্রমাণ পাওয়া গেল এর মাধ্যমে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত সরকার।

প্রসঙ্গত, এর আগেও এই প্রদেশকে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকেও নিজের বলে দাবি করেছে দেশটি। কাশ্মীরের একটি অংশ চীন দখল করে নিয়েছে।

এই দাবির পক্ষে চীনের যুক্তি হোল যে অরুনাচল প্রদেশ এলাকাটির সাথে তিব্বত এর ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের Tawang আশ্রম, লাসা আশ্রম ইত্যাদি তিব্বতের অংশ। তাই চীনের যুক্তি তিব্বত যেহেতু এখন চীনের অংশ, অরুণাচল প্রদেশও তিব্বতের অংশ। সুতরাং অরুনাচল প্রদেশটি চীন এর।

১৯৬২ সালে উভয় দেশ অরুণাচল ও অন্যান্য সীমান্ত বিরোধ নিয়ে একটি সীমান্ত যুদ্ধে অবতীর্ন হয় এবং ধারনা করা হয় ঐ যুদ্ধে চীন জয়ী হয়েছিল। বর্তমানে চীন কর্তৃক দাবি বারংবার পুনরাবৃত্তির কারণে ভারতের জন্য তা একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছ।

উল্লেখ্য, চীন-ভারতের মাঝে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সিল্ক রোডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে প্রাচীনকাল থেকেই। ১৯৫০ সালে ভারত তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছেদ করে চীনকে স্বীকৃতি দিলে সেই সম্পর্ক আধুনিক রূপ পরিগ্রহ করে। আর জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যোগ করে নতুন এক মাত্রা।

দুই দেশের মানুষের স্লোগান হয়ে ওঠে ‘চীন-ভারত ভাই ভাই’। অথচ তিব্বতকে কেন্দ্র করে সেই দুই ভাইয়ের সম্পর্কে চিড় ধরে। দালাইলামাকে আশ্রয় দেয় ভারত। চীন অনুরোধ করে দালাইলামাকে ফেরত পাঠাতে। ভারত সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয় চীন।

১৯৬২ সালে ভারত-তিব্বত সীমান্তে আক্রমণ করে চীন। দখল করে নেয় ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের তেতাল্লিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। একসময়ের মধুর সম্পর্ক রূপ নেয় তিক্ততায়। ১৯৬৭ সালে দেখা দেয় সিকিম নিয়ে দ্বন্দ্ব। ১৯৮৭ সালে হয় অরুনাচল প্রদেশ নিয়ে যুদ্ধ। এসব দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটায়।

দুই দেশের এই দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখার জন্য ক্ষমতাশালী কিছু রাষ্ট্রও চেষ্টার কসুর করেনি। তবে, আশির দশকের পর থেকেই দুটি দেশ নিজেদের মধ্যকার সুসম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে থাকে। ফলে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়েনর প্রতি গুরুত্ব দেয়া শুরু করে। এর প্রমাণ, ২০০৮ সালে চীনের ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী অংশীদারে পরিণত হওয়া।

কিন্তু তারপরও কোথায় যেন একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই চীন-ভারত সম্পর্ক সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে নড়বড়ে হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। আর এমনই পটভূমিতে অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে দুই দেশের টানাপোড়েন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ঢাকা, ২৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ // কেবি