মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্বের বিভিন্ন শহরে নারীদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ট্রাম্পবিরোধী সিস্টার মার্চ। পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই বিক্ষোভ মিছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাখ লাখ নারী এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে বলেছে নিশ্চিত করেছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে দেশটির প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শপথের পরের দিনই বিশ্বজুড়ে নারীদের মিছিলের কর্মসূচি ছিল। শনিবার সেই কর্মসূচিই পালিত হচ্ছে।
নারীদের নেতৃত্বে এসব বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও যে কারো অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে মিছিলগুলোতে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ এসব মিছিলে অংশ নিচ্ছেন।
সম্প্রতি ক্যাথি হেলার নামে ৬৩ বছর বয়সী এক নারী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের কাছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মানবাধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অ্যালারড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সামার জারভস নামে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন। ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন নামের এক নারী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার যৌনাঙ্গ স্পর্শের অভিযোগ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের কাছে ৩০ বছরেরও পুরাতন একটি যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন জেসিকা লিডস নামের এক নারী। র্যাচেল ক্রুকস নামের এক নারীর অভিযোগ, ২০০৫ সালে তিনি ম্যানহাটানে ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থিত বে'রক গ্রুপের একজন রিসেপশনিস্ট ছিলেন। র্যাচেল ক্রুকসের দাবি ট্রাম্প তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়েছিলেন। যদিও ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিস্টার মার্চের আয়োজকদের দাবি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নারীদের নেতৃত্বে ৬৭০টিরও বেশি ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাদের মূল দাবি ও স্লোগান হচ্ছে নারীদের সম্মান। আয়োজকরা আরো জানান, নারীদের অধিকার আদায় বিষয়ে তারা বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চান।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও নারীদের নেতৃত্বে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রায় দুই লাখ নারী অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো নারী। আকাশে গ্যাসের সাহায্যে ট্রাম্প লিখে তারা ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।
পর্তুগালের ম্যাকাওয়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে শিশুদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে। বাবার কোলে করে আসা শিশুর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘আমিও ট্রাম্পের বিপক্ষে’।





