ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশী জঙ্গিকে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। আবদুল্লাহ নামের ওই জঙ্গিকে আজই (রোববার) আটক করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।

পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতের প্রভাবশালী বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ‘এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, কথিত জঙ্গি আবদুল্লাহ তরুণ ও যুবকদের মধ্য জঙ্গি সংগ্রহ করতো। নতুন এসব জঙ্গিকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তার (logistical support) দায়িত্বও পালন করতো আবদুল্লাহ।

আবদুল্লাহ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দার (Al Qaeda) দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (Ansarullah Bangla Team) সদস্য বলেও জানায় ভারতীয় পুলিশ।

ভারতীয় পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী টিম (Anti-Terror Squad - ATS) সংক্ষেপে এটিএস এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আব্দুল্লাহ ২০১১ সাল থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশে বসবাস করছে। অবশ্য প্রথম দিকে কিছু দিন সে ভারতের দেওবন্দে বাস করেছিলো।

এটিএসের সিনিয়র কর্মকর্তা অসীম অরুন (Asim Arun) – এর বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট ইন্ডিয়ার (Press Trust of India) খবরে বলা হয়, গত মাসে (জুলাই ২০১৭) আব্দুল্লাহ মুজাফফরনগরের কুটেছারা এলাকায় চলে আসে।

সন্ত্রাস-বিরোধী পুলিশ কর্মকর্তারা আরো জানান, আব্দুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগ্রহ (recruitment) করার দায়িত্ব পালন করতো এবং তাদেরকে ভুয়া আইডি কার্ড করে দিতো। পরবর্তীতে এই বাংলাদেশী জঙ্গিদের ভারতের গোপণ আস্তানায় নিরাপদে পৌঁছানো ও থাকার ব্যবস্থা করতো আব্দুল্লাহ।

পুলিশের দেয়া তথ্যে আরো জানা যায়, আব্দুল্লাহর কাছ থেকে ভুয়া পাসপোর্ট, আধার তেরটি ভুয়া পরচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অপর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাও জানায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। এর মধ্যে গত বছরের (২০১৬) জুলাইয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত এলাকার রেস্টুরেন্টে চালানো ভয়াবহ হামলা আলোড়ন সৃষ্টি করে বিশ্বব্যাপী।

বাংলাদেশ সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতুল মুজাহিদিন নামের স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর পাঁচ সন্ত্রাসীর দ্বারা চালানো ওই হামলায় একুশ জন নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে, বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন ধর্মনিরপেক্ষ (secular) লেখক ও ব্লগারকে হত্যার জন্য আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে অভিযুক্ত করা হয়।

বিগত ২০১৫ সালে এই গ্রুপটি আন্তর্জাতিক ব্লগার ও কর্মীদের নামের একটি তালিকা (hit-list) প্রকাশ করে সর্বত্র ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। গোষ্ঠীটির হত্যা তালিকায় থাকা ওই নামের মধ্যে নয়জন বৃটেনের নাগরিক ও দুইজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।

কেবি