রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে আরোপিত অবরোধের একটা শক্ত জবাব দিতে এবার পাল্টা অ্যাকশান শুরু রাশিয়ার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই এবার মার্কিনিদের একহাত দেখে নেয়ার ঘোষণা দিলেন।

রাশিয়ায় বিভিন্ন আমেরিকান মিশন থেকে একসাথে ৭৫৫ জন কুটনীতিককে বহিস্কারের আদেশের মধ্য দিয়ে মার্কিনিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অ্যাকশান শুরু করলো রাশিয়া।

স্থানীয় সময় শুক্রবার এই বহিস্কারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

আগামী ১ লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব কুটনীতিকদের রাশিয়া ছাড়তে বলা হয়েছে বলে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়।

সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওয়াইট হাউস দপ্তরের আপত্তি সত্ত্বেও দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের বিল বিপুল ভোটে পাস হয়। আর এরই জবাবেই যে রাশিয়া একসাথে এত বিশালসংখ্যক কুটনীতিক বহি:স্কারের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলো সে ব্যাপারে প্রায় শতভাগ নিশ্চিত বিশ্লেষকরা।

বিগত ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং ২০১৪ সালে ক্রাইমিয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেস অবরোধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমেরিকার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

তবে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনে তাকে রাশিয়ার গোপণ সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে, এই ৭৫৫ মার্কিন কুটনীতিক রাশিয়া ত্যাগ করলে সেখানে দেশটির অবশিষ্ট কুটনীতিকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৫৫ তে। অর্থাৎ এই মুহুর্তে আমেরিকায় যতজন রাশিয়ান কুটনীতিক রয়েছেন সেই সংখ্যার সমান।

গত বছরের (২০১৬) ডিসেম্বরে আমেরিকার ডেমোক্রাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারাভিযান সংক্রান্ত তথ্য চুরির দায়ে ৩৫জন রাশিয়ান কুটনীতিককে বহিস্কার করেছিলেন সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তারপর থেকে আমেরিকায় রাশিয়ার কুটনীতিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫৫তে।

এদিকে, রোববার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, তিনি চান না এ ধরনের বিরোধে জড়াতে। কিন্তু এখনই উপযুক্ত সময় জবাব দেয়ার। আমরা এভাবে আমাদের বিরুদ্ধের তৎপরতাকে ছেড়ে দিতে পারি না।

পুতিন বলেন, তিনি আর কোন বড় ধরনের পদক্ষেপে যেতে চান না। তবে, এ অবস্থার পরিবর্তন হোক সেটাই চান তিনি। কিন্তু নিকট ভবিষ্যতে যে এর অবসান হবে না কিংবা অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এমনটাই মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, কূটনীতিক প্রত্যাহারের এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি বলেন, “রাশিয়ার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড, দুবৃত্ত শাসকদের জন্য সমর্থন, ইউক্রেনে রুশ কর্মকাণ্ড এগুলো যে গ্রহণযোগ্য নয় এই বিষয়টি আমাদের প্রেসিডেন্ট খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। প্রেসিডেন্ট এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি খুব দ্রুতই অবরোধ আরোপের বিলে স্বাক্ষর করবেন। পাশাপাশি আমরা এটাও স্পষ্ট করতে চাই যে, রাশিয়া তার আচরণ পাল্টাবে— এটা আমরা আশা করি”। আমেরিকা পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এখন কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়।

কেবি