আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে আফগানিস্তানে নারী নির্যাতন বিষয়ে একটি আইনে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগানিস্তানে নারীরা পরিবারের ভেতরেই প্রধানত নির্যাতনের শিকার হয়।
কিন্তু গত বছর আফগান সংসদে পাশ হওয়া এই আইনে বলা হয় অভিযুক্ত নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে পরিবারের কোন সদস্য সাক্ষী দিতে পারবে না।
সমালোচকদের কথা, এটা হলে নারীদের পক্ষে বিচার পাওয়া অসম্ভব। প্রেসিডেন্ট কারজাই এখন সেই যুক্তি মেনে নিচ্ছেন। আইনটি গত বছর আফগান পার্লামেন্টে গৃহীত হয়েছিলো।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রস্তাবিত নতুন এই আইনের খসড়া সংসদে পাস হলে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলায় অপরাধীকে সাজা দেওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
কারণ এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত পরিবারের সদস্যরাই প্রত্যক্ষ করে থাকে।
এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানায় আফগানিস্তান ও দেশের বাইরে নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করে এরকম আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।
তাদের বক্তব্য, এই আইনের কারণে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর দেশটিতে বাল্য বিবাহ, ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতন বন্ধের ক্ষেত্রে যেসব অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আইনটি যখন পাস হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছিলো, তখনই শেষ মুহূর্তে এসে আজ মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এই খসড়ায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খসড়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়কে।
আফগান প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন, নতুন আইনে আত্মীয় স্বজনের সাক্ষ্য দেওয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে পার্লামেন্টের সদস্যদেরকে এখন প্রস্তাবিত খসড়ায় পরিবর্তন আনার ব্যাপারে একমত হতে হবে অথবা নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে।
তবে এ বছরেই দেশটিতে বিদেশি সৈন্যের সংখ্যা কমিয়ে আনার পর বহু কষ্টে অর্জিত নারীর অগ্রগতি আবার পিছনে হটে যেতে পারে- এই আশঙ্কা দেশটিতে ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা
[b]ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তানে নারী নির্যাতন বন্ধে আইন হচ্ছে
আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে আফগানিস্তানে নারী নির্যাতন বিষয়ে একটি আইনে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগানিস্তানে নারীরা পরিবারের ভেতরেই প্রধানত নির্যাতনের শিকার হয়।





