আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সমালোচিত হ্ওয়ায় কাশ্মীরে এবার থেকে বিতর্কিত ছররা বন্দুকের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার হবে মরিচের গুঁড়ো ভরা গ্রেনেড। শনিবার এধরনের বিশেষ গ্রেনেডে অনুমোদন দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। আগামীকালই তাঁর নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল এই এলাকায় আসছে দু’দিনের সফরে। তার ঠিক আগে পিএভিএ নামে এই বিশেষ গ্রেনেড ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়ে দিল ভারতীয় সরকার।

মিডিয়ায় সূত্রে জানা যায় আগামীকালই এই পিএভিএ গ্রেনেডের ১ হাজারটি শেল কাশ্মিরিদের এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এর আগে আগস্টে দু’দিনের সফরে কাশ্মীরে এসে রাজনাথ ঘোষণা করেছিলেন, শীঘ্রই ছররা বন্দুকের বিকল্প হিসেবে অন্য কোন প্রতিরোধ আনা হচ্ছে। তবে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় মরিচের গুঁড়ো ভরা গ্রেনেড ছাড়পত্র পেলেও ভারতীয় সরকার এখনই পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করছে না ছররা বন্দুকের ব্যবহার।

শনিবারও কাশ্মিরের শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকায় জারি রইল কারফিউ। কাশ্মীরের বাকি অংশে জারি রইল বিধিনিষেধ। শ্রীনগর শহরের লালচক ও এয়ারপোর্ট রোড এলাকায় দখলের ডাক দিয়েছে স্বাধীনতাকামীরা । সেই প্রেক্ষিতেই অত্যাচারের ভয়াবহতার প্রশ্নে এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। অচলাবস্থার জেরে এই নিয়ে টানা ৫৭ দিন ধরে কাশ্মিরের মানুষদের স্বাভাবিক জীবন হুমকির মুখে রয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল উপত্যকায় আসছে আগামীকাল। তার প্রতিবাদ হিসাবে কাশ্মিরিরা আজ ও আগামীকাল এয়ারপোর্ট রোড, লালচক সিটি সেন্টার ও জেলা সদরদপ্তরগুলি দখলের ডাক দিয়েছে।

ভারতের পুলিশ জানিয়েছে, কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামীদের এই কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে শ্রীনগরের পাঁচটি থানা এলাকায় কারফিউ জারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাতামালু ও মাইসুমা এলাকাতেও জারি রয়েছে কারফিউ। তবে গতকাল বাকি যে শহরগুলিতে কারফিউ জারি হয়েছিল, সেই শহরগুলি থেকে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে উপত্যকার অন্যান্য জায়গাগুলিতে মানুষের জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ এখনও জারি রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে চিত্রসাংবাদিকদের একটি সংগঠন পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের কয়েকজন সদস্যকে হেনস্তা করার অভিযোগ আনল। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির বাসভবন ঘেরাও করা হবে বলেও হুমকি দিল। তাদের অভিযোগ, শ্রীনগরের বাতামালু এলাকায় প্রায় বারো জন চিত্রসাংবাদিককে হেনস্তা করে পুলিশ। ওই এলাকায় ছবি তোলার সময় পুলিশ এই হেনস্তা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে সংগঠনের তরফে।

সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেন, চিত্রসাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং কার্ফু পাস দেখানো সত্ত্বেও পুলিশকর্মীরা তাঁদের কাজে বাধা দেন এবং হেনস্তা করেন। শ্রীনগরের এসএসপি অমিত কুমার ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। তবে ঘটনা প্রসঙ্গে মন্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন পুলিশকর্তারা।

কাশ্মীরের চলতি হিংসার জেরে এখনও পর্যন্ত মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তালিকায় দুই পুলিশকর্মীও রয়েছেন। নির্যতিতরা লাগাতার প্রতিবাদ ও অবরোধের মেয়াদ বাড়িয়ে ৮ সেপ্টেম্বর করে দিয়েছে। যার ফলে টানা ৫৭ দিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে উপত্যকা। এখনও বন্ধ স্কুল, কলেজ, বেসরকারি অফিস।

জেড