সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত সোমবার শুরু হওয়া সংঘাত এখনো চলছে। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এছাড়া ৭০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ।

তবে নয়াদিল্লির দাঙ্গাকবলিত কয়েকটি এলাকায় আজ থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দিল্লির চারটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ চলাকালে কাউকে প্রকাশ্যে দেখা গেলে গুলি করার নির্দেশ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হাসপাতালে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ‘১৫ রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক’ বলেও জানান তিনি। দিল্লিতে পাথর ছুড়ে বিক্ষোভরত জনতার ওপর কাঁদানে গ্যাস ও স্মোক গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের মধ্যেই দিল্লিতে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়। ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদি সরকার সিএএ পাস করানোর পর থেকেই বিতর্কিত আইনটির পক্ষে-বিপক্ষে দিল্লিতে বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। সমালোচকরা বলছেন, ভারতের অসাম্প্রদায়িক সংবিধান লঙ্ঘন করা সিএএ মুসলিমদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি গতকাল মঙ্গলবারও ছিল অগ্নিগর্ভ। প্রকাশ্যেই চলেছে গুলি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দিল্লিতে সহিংসতার ঘটনা ক্রমে ব্যাপক আকার ধারণ করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দেড়শ জন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সারা দিনই দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় দিল্লির ভজনপুরায়। লাঠি ও রড নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে দুই গোষ্ঠীর লোকজন। চাঁদবাগে দোকানপাট ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি এলাকার মানুষের। পুলিশের সংখ্যাও কম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়ক বলেন, ‘হাঙ্গামাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণ্ডগোলের জায়গায় যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে।’

এদিকে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কারফিউ জারি করা হয়েছে দিল্লির চারটি জায়গায়। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সিপি প্রবীর রঞ্জন বলেন, ‘উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ ও করাবল নগরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সহিংসতার চেষ্টা করলেই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।’

ভজনপুরা রাস্তায় হাতে লাঠি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বহু মানুষকে। গত সোমবার চাঁদবাগ ও কারোয়াল নগর এলাকায়ও একই ছবি দেখা গেছে। এ দুটি জায়গায় গত সোমবার নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, সেনা নামানোর জল্পনা খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, যথেষ্ট পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শান্তি রক্ষার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, গুজব ছড়ানো বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানা গেছে। গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিল্লি পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ।