সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার শপথ গ্রহণের দিনে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের ক্যাপিটল ভবনে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ট্রাম্পকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানের সময় ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্পের হাতে ছিল আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিধন্য বাইবেল। শপথে তিনি দেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন।

ট্রাম্পের ঠিক আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মাইক পেন্স। বিচারপতি ক্লেরেন্স টমাস তার শপথ পড়ান। এ সময় মাইক পেন্সের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বাইবেল হাতে ছিল।

শপথ গ্রহণের পরই ক্যাপিটল হিলের মঞ্চে দাড়িয়ে উপস্থিত লাখো ভক্ত সমর্থকের উদ্দেশ্যে উদ্বোধনী ভাষণ দিয়েছেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‌'এটি আপনাদের দিন, এটি আপনাদের উদযাপন'।

প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমেরিকা আজ থেকে আবার বিজয়ী হতে শুরু করবে'।

সকল বিভেদ ভুলে সামনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এক আত্মা ও এক দেশ। আমরা জনগনের কাছেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছি'।

ট্রাম্প জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‌'আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ আমেরিকাকে থামাতে পারবে না। আমরাই বিশ্বের গতিপথ ঠিক করবো'।

বক্তৃতার শেষে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার শ্লোগানকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, 'আমরা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলবো'।

এরপর ট্রাম্প ও মাইক পেন্স পেনসিলভানিয়া অ্যাভেনিউয়ে প্যারেডে অংশ নেন।

আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতাদের অন্তত ৬০ জন সদস্য, বহু রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাসহ অনেক বিশিষ্টজন ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন।

তবে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন হিলারি ক্লিনটন এবং তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে হিলারি নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। অভিষেক অনুষ্ঠানে এই ক্লিনটন দম্পতি ছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, জর্জ ডব্লিউ বুশসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিষেক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হলেও ক্যাপিটাল ভবনের বাইরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর সিএনএন, এএফপি ও রয়টার্সের।

শপথের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আট বছরের শাসনকাল শেষে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের স্বপ্ন দেখানো ট্রাম্পের যুগ শুরু হল।

কোনো ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক অভিজ্ঞতাবিহীন ব্যবসায়ী ট্রাম্প আগামী চার বছর বিশ্বের একক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চিফ থাকবেন।

এই ধনকুবেরের নীতিপদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। সব সমালোচনা-বিতর্ক-বিক্ষোভ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বরণ করতে ওয়াশিংটন ডিসিতে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় হোয়াইট হাউসের কাছে সেইন্ট জনস এপিসকোপাল চার্চে সকালের প্রার্থনায় অংশ নিয়ে দিন শুরু করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি ও তার স্ত্রী মেলানিয়া যান হোয়াইট হাউসে, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিদায়ী ফার্স্টলেডি মিশেলের সঙ্গে কফি খান।

এরপর মোটর শোভাযাত্রা করে নতুন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি ক্যাপিটলে আসেন। ওবামা ও মিশেল তাদের সঙ্গ দেন। পরে ওবামা-দম্পতি হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন।

ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম ভাগে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, রাজনীতিবিদ, কংগ্রেসের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা।

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এই সংখ্যা বারাক ওবামার প্রথমবার অভিষেকে অংশগ্রহণকারীর অর্ধেক। এর মধ্যে দুই লাখের বেশি ছিলেন ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারী।

এমবি