যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজার রাফায় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। শনিবার সকালে বিমান থেকে হামলা চালিয়ে গাজার সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করে দেয় দখলদার ইসরাইল।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ দিনের আগ্রাসনে ইসরাইল গাজা উপত্যকার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এই আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
গাজার রাফায় যেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়, সেই অঞ্চল থেকেই মাত্র একদিন আগে ইসরাইলি এক সেনা নিখোঁজ হন। ওই সেনাকে অপহরণের জন্য গাজায় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে দায়ী করা হলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে নিখোঁজ সেনাসদস্য সম্পর্কে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
এদিকে, শনিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরাইলি সেনাদের বিমান হামলার পর সেখানে গিয়ে দেখা গেছে অনেকগুলো জ্বানালার ভাঙ্গা কাচ পড়ে আছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর নোটবই। তবে এই হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন সে ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
টাইম নিউজের পাঠকদের জন্য ধ্বংস হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের একটি ছবি দেয়া হলো।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইসরাইলি হামলার দুই ঘণ্টা পর সেখান থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন আল জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তাইয়েব। তিনি জানান, গাজা শহরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ এবং অকল্পনীয় তা বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তুপ দেখে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশরাফ আল কাদরির বরাত দিয়ে আলি জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে রাফায় হামলা চালিয়ে মুহুর্তে অন্তত ৩৫ বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যার সময় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়েও আগ্রাসন চালায় দখলদার ইসরাইলি সেনারা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাদরি আরও জানান, ইসরাইলি আক্রমনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল য়ে রাফা এলাকার প্রধান হাসপাতালটি থেকে তারা সমস্ত রোগীদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এদিকে একদিন আগে রাফার সীমান্ত এলাকার যেই জায়গা থেকে ইসরাইলি সৈন্য নিখোঁজ হয়েছিলেন সেখানেও ব্যাপক হামলা চালায় ইসরাইল। সেখানে অবশ্য পাল্টা প্রতিরোধেরও খবর পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ গাজা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক চার্লস স্ট্রেইটফোর্ড জানান, রাফার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শনিবার থেকে বন্ধ করে দেয় ইসরাইলি সৈন্যরা। রাস্তা দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে বলও হুসিয়ার করে দেয় দখলদার সেনাসদস্যরা।
দোষারোপের রাজনীতি:
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা বিশ্বাস করেন যে ২৩ বছর বয়সী ইসরাইলি সেনা সদস্য হাদার গোলডিনকে হামাস অপহরণ করেছে। শুক্রবার সকালে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একঘণ্টা পরই এই অপহরণের ঘটনা ঘটলো বলেও অভিযোগ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর।
হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জদিন আল কাসসাম ব্রিগেড অবশ্য দাবি করে আসছে ইসরাইলি সেনা নিখোজেঁর বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই এবং তারা এ ধরনের কোন অপহরনের সাথে জড়িত নন।
ইসরাইলের অভিযোগ ৭২ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধ-বিরতির শর্ত লঙ্ঘণ করেছে হামাস। অপরদিকে হামাসের পাল্টা অভিযোগ, যুদ্ধ-বিরতির চুক্তির মধ্যেই ইসরাইলি সেনারা রাফা অঞ্চলে ঢুকে পড়ে এবং বিনা উস্কানিতে বহু মানুষকে হত্যা করে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭০০'র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। এছাড়া ৯,০০০'র বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ৩জন বেসামরিক নাগরিক ও ৬০জন সৈন্যসহ মোট ৬৩জন নিহতের কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। অবশ্য হামাসের দাবি তারা অন্তত ১৪৫ যায়নবাদী ইহুদী সেনাকে খতম করেছেন।
ঢাকা, ২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





