ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশটিতে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র তার বামপন্থি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে এ অভিযোগে শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলেও এর আওতায় নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি মাদুরো।
শুক্রবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তারা ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ভেঙে পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন এবং মাদুরো তার মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবেন না বলে ধারণা করছেন।
তাদের এ মন্তব্যের পরপরই জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিলেন মাদুরো। তার সরকার গত বছর কলম্বিয়ার সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। ওই সময় ওই এলাকাগুলোর জন্য সংবিধানের মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাগুলো বাদে অন্য প্রতিশ্রুতিগুলো স্থগিত করা হয়েছিল।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় খাদ্য ও ওষুধের অভাব দেখা দিয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে লুটপাটের মতো ঘটনা ছড়িয়ে পড়ছে।
বিরাজমান গভীর সঙ্কটকে সামনে রেখে মাদুরোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজনের চেষ্টা করছে বিরোধী দল।তবে নিজের মেয়াদ পুরো করার বিষয়ে অনড় রয়েছেন সাবেক শ্রমিক নেতা ও বাস চালক মাদুরো।
৫৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ক্যু'র গোপন চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্যাসিস্ট ডানপন্থিদের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্রাজিলের বামপন্থি প্রেসিডেন্ট দিলাম রুসেফের অভিশংসকে 'নমুনা' উল্লেখ করে এরপর তার পালা বলে আশংকা জানান মাদুরো। তার মতে, বিরোধীরা ব্রাজিলের ক্যু’য়ের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তিক্ত হয়ে আছে। বিশেষ করে ২০০২ সালে শ্যাভেজের বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলি সমর্থন দেয়ার পর থেকে সম্পর্ক আরো নাজুক হয়ে আছে। ওই অভ্যুত্থানে স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতা হারিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট শ্যাভেজ। -রয়টার্স।
ওএফ





