ভারতে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত তিন মাসে বিভিন্ন রাজ্যে ছয়শ’র বেশি জাতিগত দাঙ্গা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লোকসভায় কংগ্রেস দলের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।
বুধবার লোকসভায় জাতিগত দাঙ্গা বিষয়ে বিতর্কের শুরুতেই খাড়গে বলেন, তিন মাসে ছয়শ’র বেশি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যেসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেসব রাজ্যেই দাঙ্গার ঘটনা ঘটছে। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এই তিন মাসেই এত দাঙ্গার ঘটনা কেন- প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি এ প্রশ্নও করেন।
খাড়গের পর কথা বলেন বি জে পি’র গোরখপুরের সংসদ সদস্য যোগী আদিত্যনাথ। আদিত্যনাথ আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা-সহ পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের এই দেশের নাগরিক বানানোর তীব্র নিন্দা করেন। একইসঙ্গে তিনি এ পর্যন্ত সব জাতিদাঙ্গার ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
সি পি এম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, “নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দাঙ্গা বেড়ে গেছে এমনটা বলা ভুল হবে। আসলে এটা অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সময় নয়। দাঙ্গা বাধানোর জন্য প্রতিনিয়ত বাইরে থেকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এর মোকাবিলা করতে হবে। যে-কোনও ধর্মের কট্টরপন্থরাই বিপজ্জনক। তারা তাদের কিছু অনুগামীদের আস্থা অর্জনের জন্য অপর ধর্মের সঙ্গে দাঙ্গার পথ খোঁজেন। অনেক ক্ষেত্রে নিজের ধর্মের অপেক্ষাকৃত উদারপন্থীরা এই দাঙ্গার বিরোধিতা করেন। সেক্ষেত্রে নিজের ধর্মের লোকেদের সঙ্গেও দাঙ্গা বাধায় সুবিধাবাদী কট্টরপন্থীরা।”
শোনা যাচ্ছিল জাতিগত দাঙ্গা ইস্যুতে সংসদে বিতর্ক হলে তাতে অংশ নেবেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। কিন্তু, সংসদে হাজির থাকলেও পেছনের সারিতে বসে বিতর্ক শোনেন তিনি।
তবে, কংগ্রেস সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, আমাদের সময়েও উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাজ্যে বেশকিছু দাঙ্গা হয়েছে। কিন্তু, নতুন এই সরকার আসার পর যে চিত্র আসছে তা এক মারাত্মক অসহনীয় পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করছে।
পরে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকর বলেছেন, কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। আমরা তা খণ্ডন করছি। আসলে নির্বাচনী পরাজয়ের পর হতাশা থেকে এমন মম্তব্য করছেন তিনি।
এদিকে, রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসে দেশে মোট ৩০৮টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৫৬টি-ই ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। তিনি জানান, ৫১টি ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রে, ৪৪টি কর্ণাটকে, ৩৩টি রাজস্হানে, ৩২টি বিহারে এবং ২৬টি ঘটনা ঘটেছে গুজরাটে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০০৩ সালে দেশে মোট ৮২৩টি জাতিদাঙ্গার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছিল। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৬৮টি।
গত কয়েকদিন ধরে লোকসভার আলোচ্যসূচিতে এই বিষয়ের ওপর আলোচনার উল্লেখ থাকলেও তা ছাপানো আলোচ্যসূচির এতটাই পেছনে রাখা হচ্ছিল যে, এই ইস্যুতে আর বিতর্ক সম্ভব হচ্ছিল না। অথচ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিতর্কের দাবি জানানো হয়েছে। এই ইস্যুতে বিতর্কের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন নিজেই। গতকাল লোকসভা অধিবেশনের শুরুতেই খাড়গে জাতিদাঙ্গার ওপর আলোচনার দাবি জানান।
এর পর বিচারপতি নিয়োগ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর তিনি আবারও বলেন, কংগ্রেস যে ইস্যু উত্থাপন করেছে তা নিয়ে যদি সংসদে বলতে না দেয়া হয় তবে আর কোথায় বলতে দেয়া হবে। সুমিত্রা মহাজন খাড়গের উদ্ধত আঙুলের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘দয়া করে স্পিকারের আসনের দিকে আঙুল তুলবেন না।’ এর পর জাতিগত দাঙ্গা ইস্যুতে বিতর্ক শুরু হয়। সূত্র: আইআরআইবি
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





