তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ও সাংবাদিক আহমদ হাসান ইমরান তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে সারদা কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে থেকে কুৎসা রটনা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার কোলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘কলম’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে ইমরান বলেন, “যেকোনোভাবে আমাকে সন্ত্রাসবাদী বা জঙ্গি প্রমাণ করতে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। ওদের সুবিধা হলো, আমি সংখ্যালঘু। তাই সহজেই জঙ্গি আখ্যা দিয়ে দেয়া সম্ভব।”

তিনি বলেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি। আমার জীবন খুবই স্বচ্ছ। ভারতের কোনো আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা, এমনকি কোনো থানায় সাধারণ ডায়েরিও যদি কেউ দেখিয়ে দিতে পারে তাহলে আমি ওদের সব কথা মেনে নেব। বরং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির জন্যই আমি কাজ করেছি।"

আহমদ হাসান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, "আসলে ওদের লক্ষ্য তৃণমূল। যেহেতু আমি তৃণমূল সাংসদ তাই টার্গেট করা হচ্ছে। যেসব কথা বলা হচ্ছে, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা শুনে আমি বিস্মিত। আমি নাকি হাওয়ালার (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠিয়েছি? যদি প্রমাণ করতে পারেন সব ছেড়ে দেব।"

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, "আমাকে কে টাকা দেবে ? আর আমিও কোন স্বার্থে এই অবৈধ কাজে লিপ্ত হবো?

বলা হচ্ছে, আমি নাকি বাংলাদেশের জামায়াতের জন্য তৃণমূলের হয়ে টাকা পাঠিয়েছি? এর থেকে সর্বৈব মিথ্যা আর কী হতে পারে? এ তো দেখছি গোয়েবলসীয় কায়দা! বারবার একটি মিথ্যেকে জোর করে বলে, প্রচার করে সত্য বলে প্রমাণিত করার চেষ্টা হচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধু খবরের কাগজের সূত্র ধরে যা মনে আসছে অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা কি নৈতিকতার মধ্য পড়ে?”

আজ কোলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকায় 'জামায়াতের সন্ত্রাসেও সারদার টাকা' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,"বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে কাজে লাগানো হয়েছে সারদার কোটি কোটি টাকা। আর তার সঙ্গে জড়িত তৃণমূল সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান।
এ ব্যাপারে ভারতের কাছে সরকারিভাবে অভিযোগও জানিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও ইমরান নিজে তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সারদা কেলেঙ্কারিকে ইস্যু করে দৈনিক ‘কলম’ পত্রিকার কার্যনির্বাহী আহমদ হাসান ইমরানকে জড়িয়ে যেসব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সময় তার জবাব ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন রাজ্যসভার এই সদস্য।

কিন্তু তারপরও অপপ্রচার বন্ধ না হওয়ায় আহমদ হাসান বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: নতুন বার্তা

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ