জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান জেইদ রা’দ আল হুসেন আবারও জোরালো উচ্চারণে বলেছেন মিয়ানমারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। বুধবার কমিশনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, তার জোরালো সন্দেহ রয়েছে গত বছরের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনা অভিযানে গণহত্যার আলামত রয়েছে। এই বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ মিয়ানমার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতেও তিনি একই ধরণের সন্দেহের কথা বলেছিলেন।

গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন বলছে ওই অভিযানের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে সাত লাখ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে রাদ আল হোসেন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার আলামত দেখার কথা জানান। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর  নির্বিচার গুলি চালিয়ে হত্যা, গ্রেনেডের ব্যবহার, খুব কাছাকাছি অবস্থান থেকে গুলি করা, ছুরিকাঘাত, পিটিয়ে হত্যা এবং ঘরে মানুষ থাকা অবস্থায় তা জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ হিসেবে এইসব অপরাধের শিকার হওয়ার ঘটনাকে গণহত্যা ছাড়া আর কী বলা যাবে।

বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে দেওয়া ভাষণে রা’দ আল হুসেন বলেন, রাখাইনের  গণকবরে বুলডোজার চালানোর খবর প্রমাণ করে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সম্ভাব্য মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিহ্ন করতে চায়।

জেনেভায় তিনি বলেন, দশ রোহিঙ্গাকে বিচারবর্হিভূতভাবে হত্যায় সাত সেনা সদস্য ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনা যথেষ্ট কোন পদক্ষেপ নয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন আর্ন্জাতিক সংস্থা রাখাইনে গণহত্যার অভিযোগ করে আসলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে। রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করে আসা মিয়ানমার তাদের অবৈধ বাঙালি হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এই বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাপ্রধান স্বীকার করে নেন,  গ্রামবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা মিলে দশ ‘বাঙালি জঙ্গি’কে আটকের পর হত্যা করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স  প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনায় অংশ নেওয়াদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। ওই সংবাদ সামনে আসার পরই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত বেশ কযেকজন গ্রামবাসী ও সাত সেনা সদস্য ও তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এসএম