পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ুর রাজ্যের রামেশ্বরমে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণু বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তাকে দাফনকালে সেখানে উপস্থিত থেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

এ ছাড়া শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ অনেক বিশিষ্টজন। আবদুল কালামকে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে রামেশ্বরমে সমবেত হয়েছিল লাখ লাখ লোক।

দাফনের আগে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্থানীয় মসজিদে। সেখানে জানাজার পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কবরস্থানে। ১৯৩১-এর ১৫ অক্টোবর এই রামেশ্বরমেই জন্মেছিলেন ভারতের মিসাইলম্যান খ্যাত আবুল পাকির জয়নুল আবেদিন আবদুল কালাম। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

আবদুল কালাম গত সোমবার শিলংয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মরদেহ মঙ্গলবার সকালে সামরিক বাহিনীর বিশেষ বিমানে করে শিলং থেকে নয়াদিলীøতে আনা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন প্রধান। প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেখানে তাঁকে দেয়া হয় গার্ড অব অনার।

বুধবার সকালে রাজধানীর পালাম বিমানবন্দর থেকে কালামের মরদেহ নিয়ে বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ তামিলনাড়ু যায়। এর আগে বিমানবন্দরে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘ভারতরতœ’ খেতাবজয়ীকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তামিলনাড়ুর মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ হেলিকপ্টারে করে রামেশ্বরমে নেয়া হয়।

বুধবার বিকেলে রামেশ্বরম শহরের বাসস্ট্যান্ডের কাছে খোলা মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতির মরদেহ রাখা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ ‘ভারতের মিসাইলম্যানের’ কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনন্যসাধারণ মানুষটিকে একনজর দেখার জন্য বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রামের বাড়ি নেওয়ার পথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকে হাজারো মানুষ।

জেডআই