সৌদি আরবের জিযান প্রদেশের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং ১০৭ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সৌদি জন-প্রশাসন অধিদপ্তর (Saudi Civil Defence Directorate)-এর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক বার্তায় বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর ২০১৫) স্থানীয় সময় রাত আড়াইটার দিকে জিযান জেনারেল হাসপাতালে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

হাসাপতালের প্রথম তলায় এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। তবে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৪টার দিকে এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।

হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট (Intensive Care Unit-ICU) এবং গাইনি বিভাগ (Maternity Ward) এই তলাতেই অবস্থিত বলেও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং অগ্নিকান্ডের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, আগুন নিয়ন্ত্রনে জন-প্রশাসন অধিদপ্তরের ২০ টি ব্রিগেডকে (Brigades) কাজে লাগানো হয়েছে। তবে, এই প্রতিবেদন লেখার সময় সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী অগুন নিয়ন্ত্রনে এসেছে।

অগ্নিকান্ডের শিকার জিযানের কিং ফাহাদ হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগের ডাক্তার আহমাদ আল-সাম আলজাজিরা টেলিভিশনকে জানান, আগুনে হতাহতদের অধিকাংশই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী।

এদিকে, এরইমধ্যে অগ্নিকান্ডের শিকার কিং ফাহাদ হাসপাতালের রোগীদের পার্শ্ববর্তী অপরাপর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ডাক্তার আল-সাম আরও বলেন, অগ্নিকান্ডের মূল কারণ এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।

অগ্নিকান্ডের এই ঘটনায় এরইমধ্যে ২৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে ধ্বংসাত্মক হিসাবেও আখ্যায়িত করেছেন ডাক্তার আহমাদ আল-সাম।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের দক্ষিণ পশ্চিমের প্রদেশ জিযান। এই প্রদেশের রাজধানী হলো জিযান সিটি এবং এখানেই কিং ফাহাদ হাসপাতালটি অবস্থিত। ইয়েমেনের উত্তর সীমান্ত ঘেষা এই শহরটির অবস্থান।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন থেকে জিযান শহরকে লক্ষ্য করে একটি রকেট ছোড়া হলে তা প্রতিহত করে সৌদি সামরিক বাহিনী। তবে, বৃহস্পতিবার হাসপাতালের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এ ধরনের কোন বিষয় আছে কীনা তা এখনও পরিস্কার নয়।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

কেবি