বিজেপি এককভাবে ২৮৪টি আসন পেয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত তিন দশকের মধ্যে একক কোন দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়লাভ করলো বিজেপি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২টি আসন। অথচ এই দলটিই ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র ২টি আসন। কিন্তু বিজেপি কীভাবে এই ম্যাজিক দেখালো তা বুঝা যাবে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশ্লেষণ থেকে। বিজেপি'র এ বিপুল বিজয়ের পেছনে ৫টি কারণকে চিহ্নিত করেছে ভারতের প্রভাবশালী এ পত্রিকাটি। ১. কংগ্রেস সরকারের অর্থনৈতিক দুরবস্থাই বিজেপির জন্য সাফল্যে দুয়ার খুলে দিয়েছে বলা যায়। গত এক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে ৮ শতাংশ। কিন্তু গত মাত্র এক বছরে এই অগ্রগতি ৫ শতাংশ কমে গেছে। আর মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ১০-এর কোঠা ছাড়িয়েছে, যা ভারতের জন্য রেকর্ড। আর কংগ্রেস সরকারের শেষ পর্যায়ের এ দুর্বলতাটিকে মোদী খুব ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন, যার সুফল তিনি পেয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কংগ্রেস সরকারের এই ব্যর্থতার দিকটি ফলাও করে প্রচার করেছেন। প্রচারণায় তিনি তার গুজরাটকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, ভারতজুড়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থা চললেও গুজরাটে তা ছিল স্বাভাবিক পর্যায়ে। ফলে, তিনি অন্য ২৮টি রাজ্যের জন্য গুজরাটকে মডেল হিসেবে দেখাতে পেরেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মোদী পরিবর্তন এবং অর্থনীতির গতিশীলতার আওয়াজ তুললে তা ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের আলোড়ন তুলে। তাছাড়া, ভারতের ধনাঢ্য সম্প্রদায়ও পতনের মুখে থাকা বাণিজ্যিক অগ্রগতির রাশ টেনে ধরতে মোদীকে বেছে নেয়। ২. কংগ্রেস সরকারের জন্য আরেকটি অস্বস্তিকর বিষয় ছিল দুর্নীতি। কংগ্রেস ও এর জোটের বেশ কিছু সরকারি তহবিল ও সম্পত্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় তা কংগ্রেসের জন্য নেতিবাচক ফল নিয়ে আসে। দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ভোটারদের মনে এক আলোড়ন তৈরি করে, যার ফলেই আম আদমি পার্টির উত্থান ঘটে। এমন সময় 'ম্যাজিক' নিয়ে আসেন মোদী। তিনি নিজেকে দেশবাসীর জন্য একজন চৌকিদার বা প্রহরী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সরকার ও প্রশাসন থেকে দুর্নীতির মূল উৎপাটনের অঙ্গীকার করেন মোদী, যা তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। ৩. যুব সমাজ হচ্ছে বিজেপির আরেকটি ম্যাজিক। ৮১ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকরই বয়স ৩৫ বছরের কম। তারা বেকারত্ব সমস্যার সমাধান আশা করেন। মোদী তাদের জন্য চাকরির ক্ষেত্র তৈরির অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া, বিজেপি এবার আরেকটি কাজ করেছে। যেসব আর্থ-সামাজিক গ্রুপ, গোত্র ও ধর্মের ভোট বিজেপি কখনও পেতো না, এবার তাদের ভোটব্যাংকে হানা দিতে পেরেছে দলটি। ৪. এবার বিজেপি এবং মোদী ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন ফেসবুক, টুইটার প্রচারণা চালিয়েছে। মোদীর নিজের সেলফি (নিজের হাতে তোলা ছবি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেও তিনি ভোটারদের অনেক কাছে পৌঁছে গেছেন। তিনি প্রায় প্রতিদিনই ফেসবুক ও টুইটারে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী রাহুল গান্ধী টুইটার ত্যাগ করেন। ফলে, প্রযুক্তির ব্যবহার মোদীকে ব্যাপক সুবিধা দিয়েছে। ৫. ভারতের ভঙ্গুর রাস্তাঘাট ও বন্দর ব্যবস্থা, বিদ্যুতের ঘাটতি বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে প্রকট ছিল। এসব সমস্যার কারণে ব্যবসায়িক প্রসার হতে পারেনি। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন শহরে বাস করে। তাদের কাছে এ বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, মোদী দেশবাসীর চোখ নিয়ে যান তার গুজরাটের দিকে। গুজরাটে তিনি অবকাঠামোমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সেখানে হাজার হাজার কিলোমিটার হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন, যা গুজরাটে দেশের বৃহত্তম আধুনিক বন্দর স্থাপন করতে সহায়তা করেছে। তিনি ভোটারদেরকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, গুজরাটের এই রূপই সারাদেশে ফুটিয়ে তুলবেন। আর মোদীর এসব ক্যারিশমেটিক প্রচারণা ভোটারদের খুব মনে ধরে; যার ফলে এই এক অভূতপূর্ব বিজয় নিয়ে আসে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া [b]ঢাকা, ১৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ [/b]
আন্তর্জাতিক
বিজেপির বিজয়ের পেছনে প্রধান ৫ কারণ
বিজেপি এককভাবে ২৮৪টি আসন পেয়ে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। গত তিন দশকের মধ্যে একক কোন দল হিসেবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়লাভ করলো বিজেপি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ২৭২টি আসন।





