চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইউলিনে চলছে কুকুরের মাংস খাওয়ার উৎসব। পশু অধিকার কর্মীদের বাধা সত্ত্বেও গুয়ানজি প্রদেশের ইউলিন শহরে প্রায় দশ হাজার কুকুর নিধন করা হবে এই উৎসবে।

ইউলিন বাসীরা গ্রীষ্মকালে মহাসমারোহে এ উৎসব পালন করছে গত কয়েক বছর ধরে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী লিচুর সঙ্গে কুকুরের মাংস মিলিয়ে খায় ইউলিনবাসীরা। রোববার থেকে এই উৎসব শুরু হয়েছে।

তিয়ানজিনের একজন স্কুল শিক্ষক গত শনিবার শুধুমাত্র এই উৎসবের নিষ্ঠুরতা থেকে কুকুরদের বাঁচানোর জন্য একশোটি কুকুর কিনেছেন। চীনেই এই উৎসবের বিরোধীতা রয়েছে।

পশু অধিকার নিয়ে যেসব সংগঠন কাজ করে তারা বলছে, এই উৎসবে খুব নিষ্ঠুরভাবে কুকুরকে হত্যা করা হয়। যদিও ইউলিনিবাসীদের বক্তব্য, খুব সাধারণভাবে কুকুরগুলো মারা হয়।

চীন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রথা চলে আসছে প্রায় চার-পাঁচশো বছর ধরে।

তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত যে গ্রীষ্মে কুকুরের মাংস খেলে শীতে সুস্থ থাকা যায়, বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যদিও চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা জিনহুয়ার তথ্যমতে গত কয়েক বছর ধরে চীনে এই প্রথা চালু হয়েছে।

পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বেশ কিছু সংগঠন বলছে, প্রতি বছর এই সময় মাংসের জন্য প্রায় দশ হাজার কুকুরকে হত্যা করা হয়। কুকুরের মাংস খাওয়ার উৎসব কয়েকশো বছরের পুরনো হলেও চীনের রাষ্ট্রীয় সংস্থার তথ্যমতে গত কয়েক বছর ধরে ইউলিনে এ উৎসব শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে এই নৃশংস উৎসব বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেছে সংস্থাগুলো।

এই ক্যাম্পেই ব্রিটিশ কমেডিয়ান রিকি গার্বেইস, চীনা পপ স্টার চেন কুন, অভিনেতা ইয়াং মিসহ সেলিব্র্রিটিরাও অংশ নিয়েছেন।

অবশ্য ইউলিনের প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী হলেও তা তারা সমর্থন করে না।

এসএইচ