জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ডাকে এক জরুরি সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিন বলেছেন ইউক্রেন সংকটকে ঘিরে কোন রকম যুদ্ধের সূচনা হোক মস্কো তা চায় না।
ইউক্রেনের অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে এ কথা বলেন চুরকিন।
নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইউক্রেনের অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আর্সেনি ইয়াৎসেনিউক বলেন, ক্রাইমিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি মস্কোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ।
ইয়াৎসেনিউক বলেন, চাইলে ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এখনও সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
‘রাশিয়া কি যুদ্ধ চায়’ এ বলে ভিতালি চুরকিনকে সরাসরি প্রশ্ন করেন তিনি। মি: চুরকিন বলেন, রাশিয়া তা কখনোই চায় না। ইউক্রেন প্রশ্নে ওই বৈঠকে যেন এক নাটকীয় মুহুর্ত সৃষ্টি হয়।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত সামান্থা পাওয়ারও ক্রাইমিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাশিয়াকে আহ্বান জানান ।
তিনি বলেন, 'আমরা এখন একটা সংকটজনক পরিস্থিতিতে আছি। পরিষদের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী সমস্যা সমাধানের পথ পরিস্কার- রুশ সেনাদের অবশ্যই তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনকে ক্রাইমিয়ায় যেতে সম্মতি দিতে হবে এবং সব দেশকে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। এখনও দেরি হয়নি, তবে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে'।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে হুমকি দিয়েছে, ইউক্রেন থেকে ক্রাইমিয়াকে ভেঙে রাশিয়াতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা থেকে বিরত না থাকলে তারা রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপ করবে।
ক্রাইমিয়া রাশিয়ায় যোগ দেবে কিনা এ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে আগামী রোববার।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে আবেগঘন কন্ঠে চুরকিন বলেন, রাশিয়ায় যোগ দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে গণভোটে অংশ নেয়া ক্রাইমিয়ার অধিবাসীদের অধিকার।
এদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দোনেতস্কে রুশপন্থী বিক্ষোভকারীদের সাথে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় শহরটির লেনিন স্কয়ারে।
সেখান থেকে বিবিসি সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, শহরটিতে উত্তেজনা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও জানাচ্ছেন, দোনেতস্কে সেখানকার খুব কম অধিবাসীই রয়েছেন যাদের ইউক্রেনের অন্তবর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ১৪ মার্চ (টাইমনিউজবিডিডটকম) // ইএইচ[/b]