আজ ২০ জুন, শুক্রবার। বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও গুরুত্বসহকারে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

শরণার্থী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ৫ কোটি অতিক্রম করেছে সারা বিশ্বে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের সংখ্যা।

জানা যায়, ২০১২ সালে সারা বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫২ লাখ। গত এক বছরে ৬০ লাখ বেড়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বাড়ার প্রধান কারণ যুদ্ধ। আরব বসন্তে সিরিয়া যুদ্ধের ফলে ২৫ লাখ মানুষ শরণার্থী এবং আরও ৬৫ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছে।

এছাড়াও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র বিশেষ করে দক্ষিণ সুদানে ২০১৩ সালে নতুন করে উল্লেখযোগ্য হারে বাস্তুচ্যুতি ঘটে। একই বছর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ। শরণার্থী এসেছে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার থেকে। ২৫ লাখেরও বেশি আফগান ও ৪ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের বার্ষিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের দুটি শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমার থেকে আসা ৩০ হাজার শরণার্থী বাস করছে। ক্যাম্পের বাইরে আছে আরও দুই থেকে ৫ লাখ অনিবন্ধিত ব্যক্তি। গত বছর বাংলাদেশ সরকার একটি জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন করে, যাতে অনিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিকদের তালিকাকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হলে শরণার্থী শিবিরের বাইরে থাকা অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব স্বীকৃত হবে।

শরণার্থী শিবিরে কারিগরি শিক্ষা ও বার্মিজ ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কোর্স পরিচালনা ও রাখাইন রাজ্যে শান্তি ফিরে এলে শরণার্থীদের ফিরিয়ে এনে স্বাবলম্বী করার সুপারিশ করে ইউএনএইচসিআর।

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা অব্যাহত থাকায় ১৯৭৮ সাল থেকে ওই দেশের প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা সদস্যকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই রোহিঙ্গাদের অধিকাংশেরই অবস্থান বাংলাদেশে।