ভারতে মারা যাওয়ার দীর্ঘ এক মাস পর ৫৭ বছরের এক চিকিৎসকের গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম হরেন্দ্র বাধাই । শনিবার মধ্যপ্রদেশের মিরাত শহরের শাস্ত্রিনগর এলাকায় ওই চিকিৎসকের বাসভবন থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি না খেতে পেয়ে মারা গেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সাবেক সরকারি চিকিৎসক হরেন্দ্র বাধাই এবং তার ছোট ভাই হরিশ বাধাই(৫৫) একই বাড়িতে থাকতেন। এই দুই সহোদর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

এক মাস পর চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার এক মাস পর চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। হরেন্দ্রর বাড়ি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ করে তাদের প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে শনিবার পুলিশ ছুটে আসে এবং ওই বাড়ি থেকে চিকিৎসকের গলিত লাশ উদ্ধার করে। ছোট ভাই হরিশ এসময় বাড়িতেই ছিলেন।

তিনি পুলিশকে বলেন, তার ভাই ঘুমিয়ে রয়েছেন এবং তাকে যেন বিরক্ত না করা হয়।পুলিশ জোরপূর্বক হরেন্দ্রের লাশ নিয়ে আসে। পুলিশের ধারণা , হরেন্দ্র গত এক মাস আগে দেহ ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু তার মৃতদেহের সৎকার না করে ঘরেই রেখে দেন হরেশ এবং লাশের সঙ্গে নির্বিঘ্নে দিন কাটাতে থাকে ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ওই দুই ভাই সবসময় বাড়িতেই থাকতেন এবং পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এমনকি তাদের কোনো নিকটাত্মীয় রয়েছে কিনা সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি।

পুলিশের অনুমান, সম্ভবত না খাওয়ার কারণেই মারা গেছেন হরেন্দ্র। যে লোক তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসতেন গত বিশ দিন ধরে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

ছোট ভাই ছিলেন হরিশ ছিলেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। আর বড় ভাই হরেন্দ্র চিকিৎসক। মানসিক সমস্যা দেখা দেয়ার পর তারা দুজনই চাকুরি ছেড়ে দেন এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় বসবাস করতে শুরু করেছিলেন দুজন।

পুলিশ হরেন্দ্রর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি কব্জায় নেয়া হয়েছে হরিশকে।

ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ