যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন ক্যালিফোর্নিয়া রাষ্ট্র গঠনের আরেকটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চরম রাজনৈতিক সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংগঠন এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্রেক্সিটের অনুকরণে ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবিতে এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্যালেক্সিট’।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জেনারেল জেভিয়ার বেসেরার কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়েছে। এতে ২০১৮ সালে স্বাধীনতার দাবিতে ক্যালফোর্নিয়ায় একটি গণভোটের আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি গৃহীত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে আয়োজকদের ছয় লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে।

গ্রুপটির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সনদের সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য সাংবিধানিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের আবেদন জানানো হয়েছে । তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ সংবিধান গোল্ডেন স্টেটের নীতি-আদর্শের সাথে মানানসই নয়। গত বৃহস্পতিবার প্রান্তিক সংগঠনটির আনা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান যে সম্পর্ক তাতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার অধিকার দেয় না, তাই এর সংশোধনী আনতে হবে।’

গ্রুপটির সমর্থকরা আশা করছেন, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালটে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাধীনতার বিষয়টি নিয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হবে। যদিও চলতি বছর এর আগেও দু’দফা অনুরূপ আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। নতুন এই প্রস্তাবনাটির শিরোনাম দেয়া দেয়া হয়েছে ‘সাংবিধানিক সংশোধনীর জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার আহ্বান।’ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি ফেডারেল পার্লামেন্টে উঠতে হলে তা আগে অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদে পাস হতে হবে, যে কারণে আগের দু’টি স্বাধীনতার উদ্যোগ বাতিল হয়ে গেছে।

সর্বশেষ উদ্যোগে বলা হয়, ‘১৭৮৭ সালের পর বিশ্বের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে’ এবং ক্যালিফোর্নিয়াকে অবশ্য তাদের নিজস্ব পথে চলতে দিতে হবে কেননা অভিবাসন থেকে পরিবেশসহ না বিষয়ে ফেডারেল সরকাররের সাথে এ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, ‘আমরা বিশ্বাস করি অব্যাহত সতর্ক প্রহরা ও আইনের আগাগোড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সরকারে পদক্ষেপের মাধ্যমে সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করা, যা সমাজের বৈচিত্র্যময় নানা অংশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এএইচ