বাংলাদেশের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটজালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম এবং মাঝপথে এই নির্বাচন থেকে বিএনপির সরে দাড়ানোর ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

আজ (শুক্রবার) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুরমায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ হতাশার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান।

তিনি বলেন, “আমি জানি যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই আমি এখানে এসেছি। আমি নিশ্চিত আপনারা এখানে আমাদের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য দেখেছেন। নির্বাচনে নানা অনিয়ম এবং মাঝপথে বিএনপির নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ায় আমরা আশাহত হয়েছি।”

তিনি বলেন, এখনও যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী যেখানে সব দল সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং যেখানে বাংলাদেশী জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চতুর্থ অংশীদারিত্ব সংলাপে অংশ নিয়ে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাতেই মূলত এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সিটি নির্বাচনের অনিয়মের তদন্ত করা গণতন্ত্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ সকালে ও গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় আমরা নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা করেছি। ভোটে অনিয়মের ব্যাপারে স্পষ্টত সবাই ভীষণ উদ্বিগ্ন, এটা আমাকে অবশ্যই বলতে হবে।

তিনি বলেন, ভোট চলাকালে বিরোধীদলের নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি, নির্বাচনে অনিয়মগুলোর ব্যাপারে কীভাবে স্বচ্ছ তদন্ত করা যায়, এ ব্যাপারে সবার লক্ষ্য করা প্রয়োজন। গণতন্ত্রের জন্য ওই অনিয়ম তদন্তগুলোর তদন্ত করা খুব জরুরি।

অংশীদারিত্ব সংলাপের বিষয়ে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শিশুদের যথাযথ পুষ্টিমান ও শিক্ষা প্রদান, নারী ও মেয়ে শিশুদের জন্য সুযোগ সম্প্রসার, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র এবং সহিণ্ষুতা এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিখুঁত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশী জনগণের পাশে থাকবো এবং প্রেসিডেন্ট ওবামার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ, ফিড দ্য ফিউচার এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্যোগসমূহের মাধ্যমে এই অগ্রগতিতে সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবো।

আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান বলেন, একটি শক্তিশালী বিশ্বমানের “ব্র্যান্ড বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এবং শ্রমিক অধিকার ও শ্রমিক নিরাপত্তার প্রতি সম্মান গড়ে তুলতে সরকার, ব্র্যান্ডসমূহ, কারখানার মালিক ও ইউনিয়নের সাথে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।

গার্মেন্টস খাতে ২৫০টিরও বেশি নতুন ইউনিয়ন নিবন্ধন, কারখানা অনলাইন ডাটাবেস এবং ১০০ জনেরও বেশি নতুন শ্রমিক পর্যবেক্ষকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুকে বাংলাদেশ সরকারের বড় অর্জন বলেও মন্তব্য করেন এই মার্কিন কুটনীতিক।

তবে, এখনও বাংলাদেশে ইউনিয়ন সংগঠক ও নেতারা হয়রানি এমনকি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় মন্তব্য করে শারম্যান বলেন, সরকার ও কারখানা মালিকগণকে এই ভীতি প্রদর্শনের কৌশল বন্ধ করতে একত্রে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন পাঁচ মিলিয়ন ডলারের অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও কমিউনিটি সাংগঠনিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এখানেই শেষ নয়, শেভরন ও কোকাকোলার মতো আরো অনেক যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী।

নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন স্পস্টবাদী ও চ্যাম্পিয়ন উল্লেখ করে শারম্যান বলেন, বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ে বন্ধ এবং মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তাদের জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলে দেশের টেকসই উন্নয়ন হবে।

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বৃহত্তম অবদান রাখার ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি শক্তিতে পরিণত হয়েছে এমন মন্তব্য করে এ্ই কুটনীতিক আরও বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র নিরাপত্তায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো: শহীদুল হক, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

কেবি