হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ড্রোন ধ্বংসের মার্কিন দাবিকে মিথ্যা প্রমাণিত করে ভিডিও ফুটেজ ছাড়ার পরপরই সেই জায়গা থেকে এক ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে ইরান। এ নিয়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে।

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র জনসংযোগ দপ্তর শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের হরমুজগানের বন্দর ও সামুদ্রিক যান চলাচল বিষয়ক সংস্থার অনুরোধে ‘স্টেনা ইমরো’ নামের একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের প্রতি সম্মন না দেখানোয় ইরানের ওই সংস্থা তেল ট্যাংকারটি আটকের অনুরোধ জানায় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

আটক তেল ট্যাংকারটিকে উপকূলে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ট্যাংকারটিতে তল্লাশি চালানো হবে বলেও জানানো হয়।

হরমুজগানের বন্দর ও সামুদ্রিক যান চলাচল বিষয়ক সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল্লাহমোরাদ আফিফিপোর বলেছেন, ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার স্টেনা ইমরো’র কারণে বিপদ হতে পারে এমন দাবির পর সেটি আটক করা হয়। তিনি বলেন, এজন্য আমরা সামরিক বাহিনীর কাছে সাহায্য চাইলে তারা ওই ট্যাংকারটি প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য বন্দর আব্বাসের দিকে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই যুক্তরাজ্য নিয়ন্ত্রিত জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান আটক করে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নৌবাহিনী। ইতোমধ্যেই জাহাজের সব ক্রুকে মুক্তি দিলেও জাহাজটির বিষয়ে এখনও তদন্ত চালাচ্ছে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ জাহাজ আটকের আগে ইরানের একটি ড্রোন হরমুজ প্রণালীতে ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটি নৌবাহিনী ড্রোনটি ভূপাতিত করেন বলে জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, বৃহস্পতিবার ওই ড্রোনটি মার্কিন জাহাজের এক হাজার গজের মধ্যে চলে আসার পর যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএস বক্সার প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটি ভূপাতিত করে।

তবে এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্র্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালী কিংবা অন্য কোথাও ইরানের কোনো ড্রোন খোয়া যায় নি ।

গত জুনে ওই একই এলাকায় ইরান একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করেছিল।

জেড