নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে আজ পাকিস্তনে ভোট দিচ্ছেন কয়েক কোটি ভোটার। এজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছে ৮৫ হাজার বুথ বা ভোট কেন্দ্র।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ২৭২টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৫৭৭টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলছে। এবারই প্রথমবার ১০ ঘন্টাব্যাপী ভোটগ্রহণ চলবে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। তবে আজকের নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠান করা গেলে এটি হবে দ্বিতীয় কোনও বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা। এর আগে ২০১৩ সালে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর দল ক্ষমতায় আসে।

পাকিস্তানের চারটি প্রদেশে মূল লড়াইটা হবে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর মধ্যে। তবে দুর্নীতির দায়ে জেলে থাকায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না নওয়াজ শরিফ। যদিও তার ভাই শাহবাজ শরিফ নির্বাচনে লড়াই করছেন। তাই নির্বাচনে পিএমএল-এন পার্টি জয়ী হলে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবে শাহবাজ শরিফ।

এছাড়া বেনজির ভুট্টোর নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) কিছু সিট পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় দলগুলোর ডানপন্থী জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমাল (এমএমএ)ও কিছু সিট পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাকিস্তানে ১০ কোটি ৫০ লাখ বৈধ ভোটার মোট দুটি করে ভোট দেবেন। একটি জাতীয় পরিষদের জন্য আর একটি প্রাদেশিক পরিষদের জন্য।

দেশটিতে এবারের নির্বাচনও বেশ অর্থবহ। কেননা দুর্নীতির দায়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। আর কয়েকদিন আগে দুর্নীতি মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পর তিনি এখন রাওয়ালাপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আছেন।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইমরান খানের তেহরিক-ই- ইনসাফ পাটি (পিটিআই)।

এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী তাদের পছন্দের দল ও প্রাথীকে বিজয়ী করতে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন। বলা হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী পদে সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী হচ্ছেন পিটিআই দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। তবে সেনাবাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

জেড