ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলার হার্ডলাইনাররা। মোদিকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর স্বাগত জানানোকে ইঙ্গিত করে এমন শিরোনাম করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তার সফরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে চলে আসা সীমানা ও ছিটমহল সমস্যা সমাধানের চুক্তিকে তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, "এই দেশ নরেন্দ্র মোদির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন দেখিয়েছে। ২০১৪ সালে মুসলিম প্রধান বাংলাদেশ ও মোদির নেতৃত্বের ভারতের সম্পর্কে অপ্রকাশ্য শত্রুতা ও সন্দেহের ভয় ছিল। সেটা এখন হারিয়ে গেছে।

শুক্রবার শহরের অধিকাংশ জায়গা মোদির ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে, যা পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতীক। রাস্তা ও ব্রিজগুলো মোদি ও হাসিনার হাসিমাখা ছবির বিলবোর্ডে সজ্জিত করা হয়েছে। এমনকি মমতার ছবিও লাগানো হয়েছে। 'ভিআইপি'দের চলাচলের জন্য অধিকাংশ রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এমনকি শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপোষহীন প্রতিপক্ষ হার্ডলাইন জামায়াত-ই-ইসলামী অব বাংলাদেশ মোদির সফরকে স্বাগত জানিয়েছে।

এই সপ্তাহের প্রথম দিকে জামায়াত নেতা মকবুল আহমদ বলেছেন, 'অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমি এই সফরকে স্বাগত জানাই....ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।'

মকবুল বলেন, 'জামায়াত-ই-ইসলামী ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমি প্রত্যাশা করি যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ ও ছিটমহল হস্তান্তরের মতো বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে।"

অবশ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন জনপ্রিয় অভিব্যক্তির পাশাপাশি দলটি বাস্তবে ভারতের বিষয়ে কতটা মনোভাবে পরিবর্তন এনেছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। 

রিপোর্টে বলা হয়, একটি বিষয় স্পষ্ট যে মোদির নেপাল বা শ্রীলঙ্কা সফরের চেয়ে এই সফর অনেক স্পেশাল। ভারত প্রত্যাশা করছে বিদ্যুত, রাস্তা, রেলওয়ে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ তাদের বাজেটে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা করছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে ভারতও অংশীদার হতে চায়।"

জেডআই