বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকায়িত অঞ্চল কাশ্মীর। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হযেছে সেখানে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

বাতিল করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেটসহ যাবতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্থানীয় টিভি চ্যানেল। সর্বশেষ সড়ক যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে কঠিন খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে কাশ্মীর। দোকানগুলোতে খাবারের দাম বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ।

এটিএম বুথ গুলোতে টাকার সংকট দেখা দিয়েছে। কারো কাছে টাকা থাকলেও চাহিদামতো পাচ্ছেননা খাদ্য। অনেকে খাবারের অভাবে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমনই চিত্র উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে।

টানা চারদিনের অচলাবস্থা নিয়ে করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস-ট্রাক কোনো যানবাহনই ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না শহরে। ব্যাংকে টাকা নেই। এটিএম বুথও ফাঁকা। ভয়ংকর কিছু একটা ঘটতে চলেছে উপত্যকায়- আগাম হাওয়া বুঝে যারা মজুদ বাড়িয়েছিল, তাদের রসদেও টান পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় দরিদ্র জনসাধারণ ও খেটে খাওয়া দিন মজুরেরা। না আছে কাজ, না জুটছে খাবার। সচ্ছল-ধনী পরিবারের মতো মজুদ সামর্থ্যও নেই।

হাট-বাজার-দোকান থেকে কিনবে সে পথও বন্ধ। রাস্তায় শত শত চেকপোস্ট। পা বাড়ালেই হাজার প্রশ্ন। ওদিকে বাজারের অবস্থাও বেহাল। সরবরাহ নেই। মুদি দোকান, তরকারি বাজার, মাছ-মাংসের হাট- সবখানেই নেই দশা, যা আছে তা আকশচুম্বী।

সোমবার (৫ আগস্ট) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে।

মসলা ও শাকসবজির দোকানেও ছিল ভিড়। হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। এছাড়া পেট্রল পাম্প, গ্যাস স্টেশনগুলোতেও ছিল গাড়ির লম্বা লাইন।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের উপ-সম্পাদক মুজামিল জলিল টেলিগ্রাফকে বলেন, তিনি শ্রীনগরের আশপাশের অন্তত ১০টি এটিএম বুথে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন সেখানে টাকা নেই। বেশির ভাগই এখন হাতে হাতে টাকা নিয়ে ঘুরছে। আর দরিদ্রগোষ্ঠীর কোনো জমা টাকাও নেই।

তবে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ খাদ্যাভাবের ঘটনাকে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কাশ্মীর উপত্যকায় তিন মাসেরও বেশি খাবার মজুদ রয়েছে। অধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখে আন্দোলনকারী ও বিরোধী পক্ষের নেতাকে গ্রেফতার করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

জেড