ফিলিপাইনের তীব্র বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের এক মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তিনি অনেকটা গর্বের সুরে বলেছেন যে, দাভাও নগরের মেয়র থাকাকালে তিনি সন্দেহভাজন অপরাধীদের নিজ হাতে মেরেছেন। তার এ মন্তব্যের পর নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অব্যাহত সমালোচনার প্রেক্ষিতে তার কমিউনিকেশন্স সেক্রেটারি বলেছেন, এসব মন্তব্য আক্ষরিক অর্থে নেওয়া উচিৎ হবে না।

মার্টিন আন্দানার নামে ওই কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, দুতের্তে কোন খুনী নন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের স্বীকারোক্তির দরুন অনেকে তার অভিশংসন দাবি করেছেন। আন্দানার বলেন, ‘তিনি কোন খুনী নন। প্রেসিডেন্ট এ স্টাইলেই কথা বলেন। মেয়র থাকা অবস্থায়ও তিনি এভাবেই বলতেন। আমরা তার সব কথা আক্ষরিক অর্থে নেই না। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নেই, কিন্তু আক্ষরিক অর্থে নয়।’

যোগাযোগ সচিব যা-ই বলুন, দৃশ্যত বিচারবহির্ভ’ত হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা দৃশ্যত প্রেসিডেন্ট নিজেই স্বীকার করেছেন। এ সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেন, ‘আমি এগুলো (খুন) একসময় নিজ হাতে করতাম। করতাম পুলিশ সদস্যদেরকে দেখাতে যে যদি আমি করতে পারি, তাহলে তোমরা পারবে না কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দাভাওজুড়ে একটি মোটরসাইকেলে করে ঘুরতাম। আমি শহরজুড়ে খালি টহল দিতাম। কোথায় ঝামেলা সেটা পরখ করতাম। আমি সত্যিই চাইতাম ঝামেলা বাঁধুক যাতে আমি খুন করতে পারি।’

প্রায় দুই দশক ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাভাওয়ের মেয়র ছিলেন দুতের্তে। অপরাধ কমিয়ে আনার সুনাম আছে তার। কিন্তু একই সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘ডেথ স্কোয়াড’বানানোর অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। মেয়র থাকাকালেও এ ধরণের ‘স্বীকারোক্তি’একবার দিয়েছিলেন তিনি। একটি জনসমাগমে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, অপহরণের একটি ঘটনায় সন্দেহজনক একদল লোককে তিনি নিজে হত্যা করেছেন।

দুতের্তের কড়া সমালোচক সিনেটর লিলা দ্য লিমা বলেছেন, এ স্বীকারোক্তি তার অভিশংসনের ভিত্তি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এ বছরের মে মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দুতের্তে। এই কয়েক মাসে ৬ হাজার ব্যক্তি পুলিশের হাতে নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমই