জাতিসংঘের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মকর্তা জেইদ রাদ আল হুসেইন ঘোষণা করেছেন যে আরেকবার ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি নতিস্বীকার করবেন না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক এই কূটনীতিক বলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে চার বছরের জন্য তিনি লড়াই করবেন না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার জেইদ বলেন, আগস্ট মাসে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। সহকর্মীদের কাছে এক ইমেইল বার্তায় জর্ডানের এই প্রিন্স বলেছেন, আরেকবার স্বপদে বহাল থাকার জন্য তিনি রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের সঙ্গে আপস করবেন না।
ইমেইলে তিনি লিখেছেন, ‘ চিন্তাভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে দ্বিতীয় দফায় আরও চার বছর স্বপদে থাকতে চাই না আমি।
চলমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে থাকা মানে হচ্ছে মাথা নত করা এবং অ্যাডভোকেসি বিবৃতি থেকে নীরব থাকা।’
জেইদ ট্রাম্পের নাম ধরে সমালোচনা না করলেও জানা গেছে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ওয়াশিংটনের মানবাধিকার লংঘনের সমালোচনায় ক্ষীণকণ্ঠ হওয়ার জন্য তাকে চাপ দেন ।
জেইদের ইমেইল প্রকাশিত হওয়ার পরও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে যারা আমেরিকার বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের সাহায্য বন্ধ করে দেয়া হবে।
নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মুসলিমদের নিষিদ্ধ করার কথা বললে জেইদ একে ‘চূড়ান্ত দায়িত্বহীনতা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ‘ফেক নিউজ’ কথার সমালোচনা করে তিনি গত আগস্টে বলেছিলেন, এতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি দেয়া হচ্ছে।
তিনি ট্রাম্পকে ‘পর্বসসংকুল পথে নেমে আসা বাস ড্রাইভারের’ সঙ্গে তুলনা করেন। মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে ‘বেপরোয়া ড্রাইভিং’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের বিরুদ্ধেও তিনি উচ্চকণ্ঠ। রোহিঙ্গা গণহত্যাকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় দৃষ্টান্ত’ এবং ‘গণহত্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ভবিষ্যতে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন জেইদ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জেইদের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে শক্তিশালী কণ্ঠ।
জাতিসংঘে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরিচালক লুইস চারবোনৌ বলেন, এটা দুঃখজনক যে আপস না করলে জেইদ দ্বিতীয় মেয়াদে স্বপদে থাকতে পারছে না। তিনি বলেন, আশা করি জাতিসংঘ তার মতোই আরেকজনকে খুঁজে নেবে।
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের আমলে ২০১৪ সালে জর্ডানের পেশাদার কূটনীতিক জেইদকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়।
২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের জর্ডানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি নব্বইয়ের দশকে সাবেক যুগোসভিয়ায় জাতিসংঘ শান্তি মিশনে রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা ছিলেন। এএফপি।
এবিসিদ্দিক





