দিল্লিতে সরকার গঠন নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির তৎপরতায় যখন কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি সমালোচনায় মুখর ঠিক তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত বলেছেন, “দিল্লিতে বিজেপি সরকার গড়তে চাইছে। আমি মনে করি, তাদের একবার সুযোগ দেয়া উচিত। কারণ বহু বিধায়কই নির্বাচন চাইছেন না।”

দিল্লির তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “বিজেপি যদি দিল্লিতে সরকার গড়ার অবস্থায় থাকে, তাহলে তা খুবই ভালো কথা। গণতন্ত্রে নির্বাচিত সরকার সব সময়ই ভালো। কারণ নির্বাচিত সরকার মানুষের প্রতিনিধি। যদি বিজেপি’র দিল্লি সভাপতি সরকার গড়া নিয়ে কোনো বিবৃতি দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই তা করেছেন দায়িত্বের সঙ্গে।”

শীলা দীক্ষিতের এ মন্তব্য কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দিলেও বিজেপির পক্ষ থেকে তার প্রশংসা করা হয়েছে। দিল্লির বিজেপি প্রধান সতীশ উপাধ্যায় বলেন, “রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শীলা দীক্ষিত পরিণত ও গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। শীলাজি একজন প্রবীণ নেত্রী এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া জানেন। তাঁর বিবৃতির জন্য তাঁকে প্রশংসা করছি।”

এদিকে, শীলার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেস নেতা মুকেশ শর্মা বলেন, “শীলাজির বিবৃতিতে আমরা দুঃখিত। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত, দলের অবস্থান নয়। আমরা চাই নির্বাচন হোক। তা না করে দিল্লিতে বিজেপি-কে সরকারে বসতে দেব না।”

দিল্লির দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদ বলেন, “শীলা দীক্ষিত যে মন্তব্য করেছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত মত। কংগ্রেসের বিধায়করা কেউ নির্বাচনে ভয় পান না।”

এদিকে, আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল বৃহস্পতিবার দিল্লির পুলিশ কমিশনার বি এস বাসসির সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে একটি স্টিং অপারেশনের ভিডিও তুলে দেন। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি’র দিল্লি শাখার সহ-সভাপতি শের সিং ডাগর সঙ্গম বিহারের আপ বিধায়ক দীনেশ মোহনিয়াকে ঘুষ দিতে চেয়েছেন। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফাইআর করার দাবি জানান।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোপন ক্যামেরায় ওই দৃশ্য ধারণ করার দিনেই দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে আপ বিধায়ক মোহনিয়া জানিয়ে দেন, “দুর্নীতি ফাঁস করতেই তিনি এই স্টিং অপারেশনের আশ্রয় নিচ্ছেন। ডাগর তাঁকে টাকা দিলে তিনি তা গ্রহণ করবেন। এটাকে যেন অপরাধ বলে বিবেচনা না করা হয়।”

আপের অভিযোগ, বিজেপি বিধায়ক কেনাবেচায় উস্কানি দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার দাবি জানায়।

দিল্লি নির্বাচনে ৭০ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপি ৩১ আসন পেয়েছিল। আপ পেয়েছিল ২৮ এবং কংগ্রেস ৮টি। বিজেপি’র জোটসঙ্গী অকালি দল পেয়েছিল ১টি আসন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি’র তিন বিধায়ক হর্ষবর্ধন, রমেশ বিধুরি ও পরবেশ বর্মা নির্বাচিত হন। তারা বিধানসভার আসন ছেড়ে দেন। ফলে নতুন সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৩৪টি আসন থেকে ৫টি আসন কম আছে বিজেপি-আকালি জোটের। এ অবস্থায় বিজেপির বিরুদ্ধে বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, দিল্লি বিধানসভায় ২৮টি আসন জিতে কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠন করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু বিজেপি ও কংগ্রেসের বিরোধিতায় লোকপাল বিল পাস করতে না পেরে ৪৯ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তারপর থেকে প্রেসিডেন্টের জারি হয় দিল্লিতে। সম্প্রতি সেখানে নতুন সরকার গঠন করতে বিজেপির নাম সুপারিশ করেছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নাজীব জং। সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তারপর সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে নাজীব জং জানান।

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই