শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) করাচির ডিএইচএ সিটির কাছে এম৯ মোটরওয়েতে আনসারি সেতু এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. আব্দুল খালিক পীরজাদা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে- তেলের ট্যাঙ্কারটি করাচি যাচ্ছিল, আর যাত্রীবাহী বাসটি সাংঘার যাচ্ছিল। সংঘর্ষের সময় যাত্রবাহী বাসটি উল্টো পথে আসছিল, যার ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের ফলে তেলের ট্যাঙ্কারটি একটি পিকআপ ভ্যানের উপর উল্টে যায় এবং মোটরওয়েতে বিপুল পরিমাণে তেল ছড়িয়ে পড়ে।

রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চারটি গাড়ি জড়িত ছিল: একটি তেলের ট্যাঙ্কার, একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি যাত্রীবাহী ভ্যান এবং পণ্যবাহী একটি ট্রেলার। তিনি যাত্রীবাহী বাসের উল্টো পথে আসার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে এসএসপির বক্তব্যকেও সমর্থন করেন।

তবে মোটরওয়ে পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেল ট্যাঙ্কারের টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে এবং সংঘর্ষের কারণে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী সেতু থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এদিকে ১৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট এই ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং সিন্ধু সরকারকে দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক ও সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন’।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে প্রায়ই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কারণ দেশটির ট্রাফিক আইন মেনে চলতে জাননা সাধারণ জনগণ এবং বেশিরভাগ গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। চলতি মাসেও এম৯ মোটরওয়েতে যাত্রীবাহী মিনিবাস এবং ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী এবং তার শিশুকন্যাসহ তিনজন নিহত হন।

সূত্র: জিও নিউজ, ডন

এনএইচ