দখলদার ইসরাইলি বাহিনী গাজার হাসপাতালগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটির চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ওষুধসহ আনুসঙ্গিক উপকরণের যখন তীব্র সংকট চলছে, তখনই ইহুদীবাদী সৈন্যরা হাসপাতালে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে, খবর প্রেসটিভি।

গাজার ওয়াফা হাসপাতালের ডিরেক্টর বাসমেন আলাশি গণমাধ্যমকে বলেন, ইসরাইলের নৃশংস হামলার শিকার আহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ক্রমশ এতটাই বেড়ে চলছে যে হাসপাতালগুলো কিছুতেই তা সামাল দিতে পারছে না।

মানবাধিকার সহায়ক সংগঠন ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ) গাজার শিফা হাসপাতালে যায়নবাদী ইসরাইলি দখলদারদের সোমবারের (২৮ জুলাই ২০১৪) হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এমএসএফের ফিলিস্তিন অঞ্চলের প্রধান তমাসো ফেব্রি বলেছেন, হাসপাতাল এবং এর আশপাশকে লক্ষ্য করে হামলা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই সুরক্ষা করতে হবে এবং এদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। আজকের গাজায় হাসপাতালগুলোতেও কোন নিরাপত্তা নেই যা একেবারেই কাম্য নয়।

বিগত কয়েকদিনে হানাদার ইসরাইলের বিমান এবং ট্যাংক অবরুদ্ধ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে। ইহুদীবাদীদের এই ন্যাক্কারজনক হামলাকে ফিলিস্তিনির সিনিয়র কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা গাজায় তীব্র মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে একেবারে নিচুমানের চিকিৎসাসেবারও ঘাটতি দেখা দেয়ায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন তারা।

গত তিন সপ্তাহের ইসরাইলি বর্বর হামলায় ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা ১২০০ তে পৌছেছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক হাজার, যাদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতদের ৮০ শতাংশেরও বেশি সাধারণ নাগরিক। এর মধ্যে ২৫০-এরও বেশি শিশু।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল সম্প্রতি গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

ঢাকা, ২৯ জুলাই, টাইমনিউজবিডি, কেবি