পালিয়ে যাওয়া একটি নিরাপত্তা কুকুরের কারণে ১৬টি ফ্লাইট বন্ধ ও বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে।এ অবস্থায় কুকুরটিকে গুলি করে হত্যা করেছে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ। তবে এ ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষোভ জানিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটায় নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিমানবন্দরে কুকুরটি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

গ্রিজ নামে ১০ মাস বয়সী কুকুরটি ছিল মূলত শিক্ষানবিশ স্নাইফার কুকুর। এটি সরকারি বিমান নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি সার্ভিসে (অ্যাভসেক) কর্মরত ছিল।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাইক রিচার্ড বলেন, বিমানবন্দরের খোলা চত্বরে পার্ক করা একটি ওয়াগনে রাখা ডগ ইউনিটে ছিল গ্রিজ। কোনো কারণে এটি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এরপর প্রথম দুই ঘণ্টা কুকুরটিকে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরে এর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেলেও কেউ কাছে যেতে পারছিল না।

বরং কুকুরটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে দৌঁড়াচ্ছিল বলে জানান, মাইক রিচার্ড।

তিনি বলেন, আমরা খাবার, পুতুল এবং অন্য কুকুরের মাধ্যমে সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু জায়গাটি খুবই বড় এবং উন্মুক্ত হওয়ায় কোনো চেষ্টাই কাজ করেনি।

শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর কর্মকর্তারা কুকুরটিকে হত্যা করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়।

যদিও অকল্যান্ড বিমানবন্দরের একজন নারী মুখপাত্র বলছেন, তারা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করেও কুকুরটিকে ধরতে না পারায় কুকুরিকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু জনসাধারণ এই সিদ্ধন্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের সাফ কথা কেন গুলির পরিবর্তে কুকুরটিকে অজ্ঞান করা হয়নি।

এ ব্যাপারে ওই মুখপাত্র বলেন, আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই। কিন্তু বিমানবন্দরে অজ্ঞান করার জন্য কোনো চেতনাশাক বন্দুক ছিল না বা পুলিশ তা ব্যবহার করেনি।

এদিকে গ্রিজকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এ ঘটনায় 'হতভম্ব' হওয়ার কথা জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পশু অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'সেফ'।

সংগঠনটির একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত্ত করে দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড' বলছে, কোনো কুকুরকে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশ্যই চেতনানাশক বন্দুক ব্যবহার করা উচিত ছিল। যদি বিমানবন্দরে এ ধরনের বন্দুক না থাকলে অকল্যান্ড চিড়িয়াখানা বা অন্য কোনো জায়গা থেকে তা আনা উচিত ছিল।

এদিকে গ্রিজকে গুলি করে মারার ঘটনায় অকল্যান্ড বিমানবন্দরের ফেসবুক পেজের কমেন্টে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

মাহমুদ