জেনেভায় সিরিয়ার বিষয়ে সপ্তাহব্যাপী শান্তি আলোচনায় কোন অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ আলোচনা করেছেন।
কেরি রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ হস্তান্তরে সিরিয়ার ওপর চাপ দিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহবান জানান।
ওদিকে, জাতিসংঘের জরুরী ত্রাণ সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী ভ্যালেরি আমোস বলেছেন শান্তি আলোচনায় দুপক্ষ মানবিক সংকট বিবেচনায় লড়াই বন্ধে একমত না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।
অপরদিকে, শান্তি আলোচনায় কোন অগ্রগতি না হওয়ায় সরকার ও বিদ্রোহীরা একে অন্যকে দায়ী করেছে।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী লাখদার ব্রাহিমি বলেছেন, সরকার ও বিরোধীদের মাঝে বেশ বড় মতপার্থক্য আছে। তবে, সদিচ্ছা থাকলে সেই মত ভিন্নতা কমিয়ে আনা যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
জেনেভার বৈঠক থেকে কার্যকর কোনও সিদ্ধান্ত না আসার কারণ হিসেবে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লিম বলেছেন, বিদ্রোহী পক্ষের অপরিপক্বতাই ব্যর্থতার মূল কারণ।
আর বিদ্রোহী শিবিরের নেতা লোউয়াই সাফি বলেছেন, সিরিয়ার সরকার আসলে রাজনৈতিক সমাধান চায় না।
সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, বিশেষ কোনও অগ্রগতি ছাড়াই সে আলোচনার প্রথম পর্বের সমাপ্তি হয়েছে, এবং এ মাসের ১০ তারিখে আবারো আলোচনা শুরু হবে।
শান্তি আলোচনা নিয়ে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনাবাসিক দূত রবার্ট ফোর্ড বিবিসিকে বলেছেন, মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিরিয়ার বিবদমান পক্ষগুলো আলাপ করতে চায়নি বলেই শান্তি আলোচনা ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলছেন, তারা আলোচনা করতেই রাজি হয় নি। যেমন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রসঙ্গটি নিয়ে তারা কথা বলে নি; মানবিক সাহায্য পৌঁছানো এবং বন্দী মুক্তির বিষয়েও তারা কথা বলেনি।
ফোর্ড অবশ্য সিরিয়ার সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, এভাবে চলতে থাকলে সিরিয়া বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আর নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না।
প্রায় তিন বছর ধরে দেশটিতে চলা সংঘর্ষে দেশটিতে অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ঢাকা,১ ফেব্রুয়ারি(টাইমনিউজবিডি)//ইএইচ