চব্বিশ ঘণ্টার সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। রোববার সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে হযরতশাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।
এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ১টায় জাপান এয়ার লাইন্সের একটি বিমানযোগে তিনি সস্ত্রীক হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান। তার সঙ্গে ৫০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও ছিল।
এরপর শিনজো আবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে একটি যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করেন তারা।
একই দিন সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ হোটেল সোনারগাঁওয়ে শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ারও তার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। শিনজো আবে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্মানে নৈশভোজে অংশ নেন তিনি।
এর আগেবাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামের একটি সভায় বক্তব্য রাখেন শিনজো আবে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ড, শিল্প ও বণিক সমিতির ফোডারেশন (এফবিসিসিআই) এবং জাপান বহির্বাণিজ্য সংস্থা (জেটরো) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সর্বশেষ জাপানের প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। এর পরই শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাকে বিদায় জানান।
শিনজো আবে বাংলাদেশ সফরে আসার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরের সময় স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারে উল্লেখিত উন্নয়নমূলক বৃহৎ প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহার অনুযায়ী এসব প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতোমধ্যে জাপানি ওডিএ পলিসি ডায়ালগ মিশনের সাথে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। এ সফরে ওই আলোচনার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হবে।
এর আগে গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় বাংলাদেশ কয়েকটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ, যমুনা নদীর তলদেশে বহুমুখী ট্যানেল নির্মাণ, যমুনা সেতুর সমান্তরালে একটি রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণ এবং ঢাকার চারটি নদী পুনরুদ্ধার।
এছাড়া জাপান আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ছয়শ’ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে।
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর,টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ, এআর





