ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ (মঙ্গলবার) সেখানে যাচ্ছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা।

গতকাল (২৮ অক্টোবর) সোমবার নয়াদিল্লিতে সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

ওই বৈঠকে ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরের বিদ্যমান পরিস্থিতি ও মানবাধিকার ইস্যুতে আলোচনা হয়।

গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে কাশ্মিরে এটিই হবে বিদেশি কোনো প্রতিনিধি দলের প্রথম সফর।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সাথে দেখা করেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে করা হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমপিদের একটি দল ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরের মানবাধিকারসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জম্মু-কাশ্মির থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পর বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে উত্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লি বরাবরই কাশ্মির ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে পাকিস্তানের দাবিকে নাকচ করে দেয়ার চেষ্টা করছে। এরকম পরিস্থিতিতে কাশ্মিরে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কারণ, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে ওই উপত্যকায় ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বিদেশী প্রতিনিধিদলকে সফরের অনুমতি দেয়া হয়নি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাশ্মির সফরের বিষয়ে জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বলা হয়েছে,“আশাকরি, ওরা (ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা) রাজ্যের মানুষ, স্থানীয় গণমাধ্যম, চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কাশ্মির ও বিশ্বের মধ্যকার লোহার পর্দা সরিয়ে দেয়া উচিত এবং জম্মু-কাশ্মিরের জনগণকে সমস্যায় ফেলার জন্য সরকারকে দায়ী করা উচিত।”

মেহবুবা মুফতি বর্তমানে আটক থাকার ফলে তাঁর মেয়ে ইলতিজা মুফতি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।

এমবি