গিয়ে জাতিসংঘের সীমারেখা লঙ্ঘণ করছে? সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপনাস্ত্রের উপর্যুপরি পরীক্ষার পর এই প্রশ্নটি জোরেসোরে উচ্চারিত হচ্ছে।
নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে ভারত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি-৪ পরীক্ষা চালায়। পারমাণবিক ওয়্যারহেড নিয়ে ক্ষেপনাস্ত্রটি চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর এক সপ্তাহ আগে, দেশটি পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার অগ্নি-৫ ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করে।
ভারতীয় মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়, চীনের প্রতি দৃষ্টি রেখে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এসব ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। পত্রিকাগুলো লিখে, চীনের পুরো ভূখ- অগ্নি-৫ এর আওতায় এবং এটি চীনকে মোকাবেলা করতে সক্ষম।
তবে ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষাকে দেশটির এশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ভালোভাবে নেয়নি। বেইজিং মনে করে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র তৈরির ব্যাপারে জাতিসংঘের বেধে দেয়া সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে ভারত। আর তাই চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস নয়াদিল্লিকে তার ‘ক্ষেপনাস্ত্র জ¦র’ উপশম করার পরামর্শ দেয়।
এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হুয়া চুনইয়াং বলেন, “ভারতের অস্ত্রপরীক্ষা ওপর রিপোর্টগুলো আমাদের নজরে এসেছে। ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপনাস্ত্রের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে কিনা সে বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে।”
ভারতের এই আন্ত:মহাদেশী ক্ষেপনাস্ত্রসজ্জা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের সমপর্যায়ে আসার একটি চেষ্টা বলে বেইজিং মনে করে।
চীনের পত্রিকাটি লিখে, নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ভারত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং বলছে যে তারাই একমাত্র পারমাণবিক ও অর্থনৈতিক শক্তি যে কিনা ওই পদের উপযুক্ত। পত্রিকাটি অবশ্য ভারতের দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র উন্নয়নের পথে বাধা না দিতে বেইজিংকে পরামর্শ দেয়।
তবে, ১৮ বছরের পুরনো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের প্রতি তাদের আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর এই প্রস্তাবটি পাস হয়।
১৯৯৮ সালের ৬ জুন পাস হওয়া প্রস্তাবে দু’দেশের প্রতি আর কোন পারমাণবিক পরীক্ষা না চালানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রে ব্যবহার্য উপাদানের উৎপাদন এবং পাামাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম আন্ত:মহাদেশীয় ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে, জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-৪ এর আওতায় পাস হওয়া প্রস্তাবটি মানা বাধ্যতামূলক নয়।
ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল টাইমস দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চীনের আহ্বানকেও মনে করিয়ে দেয়।
পত্রিকাটি লিখে, “পশ্চিমা দেশগুলো যদি ভারতকে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নেয় এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ব্যাপারে উদাসীন থাকে তাহলে চীন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না এবং প্রয়োজন মতো ওইসব পারমানবিক আইন-বিধিগুলো প্রয়োগের ব্যাপারে অনঢ় থাকবে। আর এখন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারত যেসব সুবিধা পাচ্ছে পাকিস্তানকেও সেসব সুবিধা দিতে হবে।”(সূত্র-southasianmonitor)
এমবি





