একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় ইউক্রেন এখন শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বের কাছেই এক আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ, ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দ্বীপের দুটি বিমানবন্দর রাশিয়ার সেনাবাহিনী দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন আভাকভ। তবে, রাশিয়া ইউক্রেনের এ অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। খবর বিবিসির।
শুক্রবার সকালে সেভাস্তোপল সামরিক বিমান ঘাঁটিটি রাশিয়ার সৈন্যরা দখল করে নেয় বলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন। দখল করা অন্য বিমানবন্দরটির নাম হচ্ছে সিমফেরোপুল। বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে সিমফেরোপুল বিমানবন্দরে রাশিয়ার সেনাদের পোশাক পরিহিত সশস্ত্র ব্যক্তিদের পাহারা দিতে দেখা গেছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393580877.jpg[/img]
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া হচ্ছে ইউক্রেনের একমাত্র অঞ্চল যেখানে রুশ অধিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় স্বাধীন হয় ইউক্রেন। তখন থেকেই ইউক্রেনের এ অঞ্চলটি সীমিত স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছে।
কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী ক্রিমিয়ার দ্বীপটি রাশিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের রণতরীগুলোর বেসক্যাম্প হচ্ছে এই ক্রিমিয়া। এখানেই সংগঠিত হয়েছে রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক ক্রিমিয়ার যুদ্ধ। ১৮৫৩ থেকে '৫৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন জার শাসিত রাশিয়ার সঙ্গে এ যুদ্ধ হয় ব্রিটেন, ফ্রান্স, সার্দিনিয়া (ইতালির একটি দ্বীপ অঞ্চল) ও অটোমান (বর্তমান তুরস্ক) সাম্রাজ্যের সম্মিলিত বাহিনীর।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর পোশাকে ভারী অস্ত্র্র নিয়ে কয়েক ডজন 'সেনা'কে বিমানবন্দরে অবস্থান কররদ দেখা গেছে। তবে, তারা আসলেই রাশিয়ান সেনা না কি রাশিয়ার সেনাদের সামরিক পোশাক পরে বেসামরিক ব্যক্তিরা মহড়া দিচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। অস্ত্রধারীদের সংখ্যা ৫০ জন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393580894.jpg[/img]
পাহারারত অস্ত্রধারীদের হাতে ভারী রাইফেল দেখা গেছে। তারা বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের আশপাশে অবস্থান নিয়েছে।
ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে একদল বন্দুকধারীর অবস্থান নেয়ার একদিন পরই নতুন করে এ ঘটনা ঘটল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়াপন্থী এসব বন্দুকধারী ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে এবং পার্লামেন্টে রাশিয়ার নৌবাহিনীর পতাকা উড়ায়।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানোকোভিচের পতনের পর থেকে দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর আগে গতকাল ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে একদল রুশপন্থী সশস্ত্র ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। তারা পার্লামেন্ট ভবনে রাশিয়ার নৌবাহিনীর পতাকা উড়িয়ে দেয়। ইউক্রেন এসব ঘটনাকে সরাসরি রাশিয়ার 'আগ্রাসন' বলে আখ্যায়িত করেছে। ইউক্রেনের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হচ্ছে পশ্চিমা তথা আমেরিকাপন্থী। ইউক্রেন নিয়ে শুরু হয়েছে পশ্চিমা-রাশিয়ার টানাটানি। এর শেষ কোথায় তা সময়ই বলে দিবে।
এদিকে, ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে আগামী ২৫ মে অঞ্চলটির অধিকতর স্বায়ত্ত্বশাসনের পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট হবে। সূত্র: বিবিসি
[b]ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এমএ[/b]
আন্তর্জাতিক
ইউরোপে চলছে 'ইউক্রেন সার্কাস'
একের পর এক নাটকীয় ঘটনায় ইউক্রেন এখন শুধু ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বের কাছেই এক আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ, ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দ্বীপের দুটি বিমানবন্দর রাশিয়ার সেনাবাহিনী দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরসেন আভাকভ। তবে, রাশিয়া ইউক্রেনের এ অভিযোগকে অস্বীকার করেছে। খবর বিবিসির।





