ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, রাহুল গান্ধী যখনই কথা বলেন তাতে পাকিস্তানের প্রশংসা থাকে।
রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দাদরা নগর হাভেলিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দলকে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, “৩৭০ ধারা নিয়ে রাহুলের বিবৃতির প্রশংসা করে পাকিস্তান। পাক সংসদে রাহুলের মন্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। এমনকি পাকিস্তান জাতিসঙ্ঘে রাহুলের মন্তব্যকেও নিজেদের আবেদনপত্রে লিখে পেশ করে। এনিয়ে কংগ্রেসের লজ্জা হওয়া উচিত! রাহুল যখনই কথা বলেন তাতে পাকিস্তানের প্রশংসা থাকে।”
অমিত শাহ বলেন, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী স্লোগান দেয়ার বিষয়ে এবং সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা এয়ার স্ট্রাইকের মতো মারাত্মক সময়ে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। আমি কংগ্রেসকে জিজ্ঞেস করতে চাই আপনারা কী ধরণের রাজনীতি করতে চান? দেশবাসী পাথরের মতো শক্ত হয়ে মোদিজীর সঙ্গে আছেন।

অমিত শাহ বলেন, “৩৭০ ও ৩৫ -এ ধারা দেশকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। আপনারা সকলে পুনরায় মোদিজীকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি ৩৭০ ধারা বাতিল করেন। মোদিজী ছাড়া এ কাজ আর অন্য কেউ করতে পারতেন না।”
আরও পড়ুন: জায়গা নেই কাশ্মীরের কারাগারে, ভাড়া নিচ্ছে গেস্ট হাউস, হোটেল
কাশ্মীরে জনতার বিক্ষোভ, পেলেটগান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার ভারতীয় বাহিনীর
ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই: নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন
কংগ্রেসের সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, “বিগত ৭০ বছরে বছরে দেশে অনেক দলের সরকার তৈরি হয়েছে, কেউ তো আবার ৩ প্রজন্ম ধরে শাসন করেছে। কিন্তু এদের মধ্যে কেউই ৩৭০ ধারা বাতিলের মতো সাহসিকতা দেখাতে পারেনি।”

“৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে উপত্যকায় উন্নতির রাস্তা খুলেছে। আমরা সকলেই সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আছি কিন্তু কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করছে”বলেও অমিত শাহ মন্তব্য করেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্বকে বলতে চাই যে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পরে কাশ্মীরে সম্পূর্ণ শান্তি রয়েছে। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পরে একটিও গুলি চালানোর দরকার হয়নি, একটি টিয়ার গ্যাসও নিক্ষেপ করতে হয়নি বা কেউ মারা যায়নি বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দাবি।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা সম্বলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫ ধারা বাতিল করে গোটা কাশ্মীরকে একতরফাভাবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে ভারতের উগ্র-হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।
এরপর থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার। তবে ধারা বাতিলের একদিন পর থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করেছে কাশ্মীরিরা। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে অনেকেই নিহত হয়েছে। কিন্তু ভারত সবসময়ই বিক্ষোভের কথা অশিকার করে আসছে। এর ফলে কাশ্মিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সম্ভাব্য গোলযোগ প্রতিহত করতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়।
এমবি





