তারা সবাই শরণার্থী। কেউ ক্যাথলিক খ্রিস্টান, কেউ মুসলিম, কেউ বা হিন্দু। কিন্তু সবার আগে তাদের পরিচয় তারা মানুষ। ইস্টারের আগে ‘হোলি থার্সডে’র অনুষ্ঠানে সেই বার্তা সবার মাঝে পৌঁছে দিতে ১২ জন শরণার্থীর পা ধুইয়ে দিলেন পোপ ফ্রান্সিস। শুধু তাই নয়, চুম্বন করলেন সেই পায়ে।
শরণার্থী সমস্যার সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোকে স্মরণ করে দিলেন তাদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তীব্র নিন্দা জানালেন ব্রাসেলস হামলার।
যিশুর পুনর্জন্মকে উদযাপন করা হয় ইস্টারে। তবে শুধু ‘ইস্টারের রোববার’ নয়, পুরো সপ্তাহ ধরেই পালিত হয় নানা পবিত্র অনুষ্ঠান। সপ্তাহের পঞ্চম দিন, অর্থাৎ গুড ফ্রাইডের ঠিক আগের বৃহস্পতিবারটিই পালিত হয় ‘হোলি থার্সডে’হিসেবে।
প্রথা অনুযায়ী এ দিন খ্রিস্টানদের মধ্যে থেকে ১২ জনকে ঈশ্বরের দূত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নিজের হাতে পোপ তাদের পা ধুয়ে দেন ও আশীর্বাদ করেন।
তবে চলতি বছর পোপ ফ্রান্সিসের হাত ধরে অনেকটাই বদলালো সেই প্রথা। এতদিন পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারতেন কেবল পুরুষরাই। নারীদের কোনও ভূমিকা সেখানে থাকত না। কিন্তু এ বার ওই ১২ জনের মধ্যে ছিলেন ৪ জন নারী। আগে কেবলমাত্র দীক্ষিত খ্রিস্টানরাই এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এবার সেই নিয়মও পাল্টে গেল। এই বছর বিভিন্ন ধর্ম থেকে বেছে নেওয়া হল ১২ জন শরণার্থীকে।
ভ্যাটিকান সূত্রের খবর, এ বারের ১২ জনের মধ্যে ছিলেন এক নারীসহ পাঁচ ক্যাথলিক, তিন মিশরীয় খ্রিস্টান নারী, মালি, সিরিয়া ও পাকিস্তানের তিন মুসলিম এবং এক ভারতীয় হিন্দুও। রোমের এক শরণার্থী শিবিরে এ দিনের অনুষ্ঠানটি হয়।
এ দিন পোপ বলেন, আমাদের ধর্মটা আলাদা হতে পারে, তবে আমরা ভাই, একই ঈশ্বরের সন্তান, আর কিছু নয়, আমরা শুধু শান্তিতে থাকতে চাই।
অনুষ্ঠানে পোপ ফ্রান্সিস যখন ওই ১২ জন শরণার্থীর সামনে নতজানু হয়ে বসে পা ধুইয়ে দিচ্ছিলেন তখন তাদের সবার চোখেই ছিল অশ্রু। বাসভূমি ছেড়ে আসা ওই উদ্বাস্তু মানুষগুলো, যারা দীর্ঘদিন ধরে লড়ছেন শুধুমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুর জন্য। তারা প্রত্যেকেই এ দিন পোপের আন্তরিকতায় আপ্লুত। বিভিন্ন ভাষায় স্বাগত লেখা একটি ব্যানার দিয়ে শরণার্থীদের এ দিন অভিনন্দন জানান পোপ। অনুষ্ঠানের শেষে সমস্ত শরণার্থীর কাছে পৌঁছে যান পোপ, চলে সেলফি তোলার পর্বও।
এর আগেও শরণার্থী সমস্যা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন পোপ। এ দিনও শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর চুড়ান্ত অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি মুসলিম বিরোধীতার এই আবহে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি’ সেই বার্তাকেই আরও একবার মনে করে দিলেন পোপ ফ্রান্সিস
এআইজে





