সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বন্ধ এবং কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ উদ্যোগের সফলতা এখনো অনিশ্চিত।

মধ্যস্থতাকারীদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি সমঝোতা তৈরি করা, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আলোচনায় ফেরার মতো অবস্থান তৈরি করবে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমানে ওয়াশিংটনের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তেহরান এর আগে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।

তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বলেছেন, কূটনীতিই সংঘাত নিরসনের পথ। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি জানিয়েছেন।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নেতৃত্ব মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানও চায়, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে ওয়াশিংটন কিছুটা ছাড় দিক।

এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত ছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে তখনও বড় ব্যবধান ছিল; তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তেহরান বলেছিল।

এখন যুদ্ধবিরতি ও নতুন করে আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ কমাতে রাজি হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়েও সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।

দুই পক্ষের অবস্থান এখনো দূরে থাকায় আলোচনার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এস