আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কগুলোর দামে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেল ৩টা ৫৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৯৮ ডলার বা ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ১০৮ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৫২ ডলার বা ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়ায়।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের কাছে ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরই তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা গেছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ কিছুটা বাড়ায় দাম বৃদ্ধির চাপ আংশিকভাবে কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হুসেইন বলেন, হরমুজ দিয়ে তেলের প্রবাহ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো সরবরাহ ঘাটতির পরিস্থিতিতে রয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করলে কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে তেহরান কিছু শর্তও দিয়েছিল।
তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়া এবং হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুরোপুরি ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তেল ব্যবসায়ীদের বাজার-ঝুঁকি মূল্যায়নেও।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু হরমুজ প্রণালির পরিবহনব্যবস্থাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হয়, তা এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এস










