মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংকট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে থাইল্যান্ড। বিরল এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে দেশটি এও বলেছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারকে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এতোদিন কোন মন্তব্য করে নি। এবারই প্রথম থাই সরকারের পক্ষে এ ইস্যুতে কোন প্রতিক্রিয়া আসলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, “থাইল্যান্ড রাখাইন রাজ্যেরন পরিস্থিতি উদ্বেগের সঙ্গে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে।”

থাই-মিয়ানমার সীমান্তে ৯ টি ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ শরণার্থীর প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “রয়্যাল থাই সরকার সবসময়ই মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের যত্ন ও সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি ব্যপক গুরত্ব দিয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ওই ৯টি ক্যাম্পের বেশিরভাগ বাসিন্দা কয়েক দশক আগে সংঘাত থেকে পালানো শরণার্থী। সেখানে সক্রিয় বেসরকারী সংস্থাগুলোর ভাস্যমতে এদের কেউই রোহিঙ্গা নয়। 

থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডের অবস্থান নিয়ে কিছু মানবাধিকার সংস্থা যে দৃষ্টিভঙ্গি উত্থাপন করেছে তার জবাবেই এই বিবৃতি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, সহিংসতা থেকে পালানো রোহিঙ্গাদের পুশ ব্যাক করা উচিত হবে না থাইল্যান্ডের। আর দেশটির উচিত শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক আইনি পরিচয় এবং সুরক্ষা দেয়া।   

গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ, গণহত্যা ও নির্যাতন করা হয়। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

এমবি