ইরাকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কিশোরী ও নারীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর যোদ্ধারা। তাদেরকে ধর্ষণ করা ছাড়াও জোরপূর্বক বিয়ে, বিক্রি করে দেয়া বা আইএসের সমর্থকরা উপহার হিসেবে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

আর এসব কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক ইয়াজিদি নারী ও কিশোরী। অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা চালাচ্ছেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা ও বিবিসির।

ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলছেন তাদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারী ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর হাতে আটক রয়েছেন, যাদের অনেকেই যৌন দাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। অল্প কয়েকজন সেখান থেকে পালাতে পেরেছেন এবং তাদের দুর্ভোগের কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

এরকমই ১৮ বছরের এক তরুণী পালিয়েছেন আইএসের কব্জা থেকে। নার্স হতে চেয়েছিলেন এই তরুণী। কিন্তু তার ভবিষ্যৎই ছিনতাই হয়েছে গেছে আইএস এর হাতে।

আগস্টের এক দিন এই তরুণী ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তার পরিবারের সদস্যরা উদগ্রীব হয়ে ব্যাগ ঘুচাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারেননি জিহাদিরা যারা নিজেদের ‘দি ইসলামিক স্টেট’দাবি করে তারা অত্যন্ত নিকটে।

তিনি জানান, তার নিজের শহর সিনজারের প্রধান সড়ক বন্ধ। তার পরিবারের সদস্যরা অন্য ইয়াজিদিদের সাথে যোগ দিল যারা দৌড়াচ্ছিল ও কাঁদছিল। মাথার উপর বুলেট উড়ছিল তখন।

তিনি জানান জিহাদিরা সিনজারের সড়ক তাদের পিক আপ ট্রাক দিয়ে বন্ধ করে দেয়ায় তিনি শহরে ফিরে আসেন যেখানে নারী ও কিশোরীরা একে অপরের কাছ থেকে আলাদা হয়ে পড়েন।

“তারা ছিল ২০ জনের মতো। লম্বা দাঁড়ি ও অস্ত্রসহ। তারা বললো তোমরা মসুল থেকে এসেছ। আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। তারা আঘাত করলো এবং তাদের গাড়ির দিকে টেনে নিলো”।

আরও অনেক নারীর সাথে এই তরুণীকেও একটি স্পোর্টস হলরুমে নেয়া হলো। এরপর একটি বিয়ের কক্ষে। একটি স্থানে প্রায় দুশ নারী ও কিশোরী ছিল। এগুলো ছিল দাস মার্কেট। আইএস যোদ্ধারা তাদের নিতে আসতে পারতো।

আইএস যোদ্ধাদের জিজ্ঞেস করেছি তোমরা এগুলো কেন করছ। তারা শুধু আমাদের লাঠি দিয়ে মারত।

এই তরুণী বলেন, “আমরা তাদের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলাম না। আমরা ছিলাম ভীত। তারা যাকে চাইছিল তাকেই নিচ্ছিল। একটা মেয়ে ফিরে এসেছিল যৌন দাস হিসেবে ব্যবহৃত হবার পর। সে আমাদের সবই বলেছিল। আমরা আমাদেরই মেরে ফেলতে চেয়েছি কিন্তু কোন উপায় খুঁজে পাইনি"।

একজন মেয়ে আত্মহত্যা করতে পেরেছিল বলে জানান তিনি। সেখানে কিছু বিদেশি যোদ্ধা ছিল কিন্তু অনেকেই ছিল স্থানীয় সুন্নী। হান্নান একজনকে চিনতে পেরেছিল। সিনজারে তার মোবাইল ফোনের দোকান ছিল।

হান্নান জানান একজন তরুণীকে প্রথম নেয়া হয়েছিল, প্রায়ই পাঠানো হতো আইএস ‘রাজধানী’-সিরিয়ার রাক্কায়।

তারা বলতো “আমরা তোমাকে তোমার পরিবারের কাছে নেব প্রথমে, শেষ বারের মতো তুমি তাদের দেখবে”।

তাদের পরিবারের কাছে না নিয়ে অন্য একটি ঘরে নেয়া হয়েছে। সাতটি মেয়েকে একটি রুমে রাখা হয়। কয়েকজনকে বাইরে নেয়া হতো এবং লাঞ্ছিত হয়ে তারা ফিরে আসতো। বাইরে অস্ত্রধারী পাহাড়া ছিল।

কিন্তু এ কক্ষটির একটি প্লাস্টিকের জানালা ছিল এবং এক রাতে তারা সেটি খুলে ফেলতে সক্ষম হয়।

“একজন করে বেরিয়ে আসলাম। আমি ছিলাম পঞ্চম। আমি বাইরে কাজিনের জন্য অপেক্ষো করছিলাম। কিন্তু দেখলাম আলো আসছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে পারিনি। দেয়ালের উপর দিলে লাফ দিলাম। আমরা দৌড়াচ্ছিলাম। আমরা অন্যদের সাহায্য করতে পারিনি।" এভাবেই বর্ণনা করেন আইএসের বন্দীদশা থেকে পালিয়ে আসা এই তরুণী।

এমএ