ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কেন্দ্রীয় সরকার ফেরত পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

রাজ্যের শিশু অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেছেন, “একজন রোহিঙ্গা শিশুও যদি পুশ ব্যাকের শিকার হয়, তা আমরা মেনে নেব না। সে জন্যই আমরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করব।”

কমিশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেয়া হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে।

গত সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে রোহিঙ্গারা এ দেশে ‘বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক’ বলে দাবি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের শিশু অধিকার কমিশনের মতে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী রোহিঙ্গা শিশু, নাবালক-নাবালিকাদের জোর করে ফের সে দেশে ফেরত পাঠানো অমানবিক। সেজন্য তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে শিশু অধিকার কমিশন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে রাজ্যের বিরোধী কংগ্রেস, সিপিএম, এসইউসিআই-সহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে বলেছেন, “জোর করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালে এই জনতা আপনাকেও ফেরত পাঠাবে।” 

কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি অধীর চৌধুরীর মতে, পীড়িত লোকজনদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার যে পুরোনো ঐতিহ্য আছে কেন্দ্রীয় মোদি সরকার সেই ঐতিহ্যকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে।

অধীর বাবু রোহিঙ্গাদের জন্য শরণার্থী কার্ড দেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

জাতিসংঘের নীতি মেনে রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও।

রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য রোহিঙ্গাদের কোনোভাবেই ভারতে আশ্রয় দেয়ার পক্ষপাতি নন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে উপদ্রব করেছে। সেজন্য সেখানকার সরকার তাদের বিতাড়ন করেছে। এ রকম বিপজ্জনক লোকদের আমরা জায়গা দেব কেন?” 

কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীরা সর্বস্ব হারানো রোহিঙ্গাদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে।

এমবি