আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ সমগ্র আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার পর পালিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আজমল আহমাদি।

আজ মঙ্গলবার ( ১৭ আগস্ট ) তার এক টুইট বার্তার বরাত দিয়ে এই খবর জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আজমল আহমাদি তার টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, তালেবান যোদ্ধারা কাবুলের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর ১৬ আগস্ট ( রোববার ) তিনি আফগানিস্তান থেকে চলে আসেন।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে চলে যাওয়ার আগের কয়েক সপ্তাহ খুব খারাপভাবে কেটেছে বলেও জানান তিনি।

আহমাদি বলেন, দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আফগানিস্তানের মুদ্রার মান রেকর্ড হারে নেমে যায়। এরমধ্যে তাকে জানানো হয়, নতুন করে আর কোনো ডলার আফগানিস্তানে সরবরাহ করা হবে না।

টুইট বার্তায় আফগানিস্তানের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন তিনি।

টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘এটি এভাবে শেষ হওয়ার কথা ছিলো না। আফগান নেতাদের পরিকল্পনাহীনতায় আমি বীতশ্রদ্ধ।’

দীর্ঘ ২ দশক আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায় এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র।

এর বিপরীতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অংশ নিতে তালেবান সম্মত হয়।

এই বছরের মে মাসে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এপ্রিলে এক ঘোষণায় ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা জানান।

পরে জুলাই সময়সীমা আরো কমিয়ে এনে ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

মার্কিনিদের সাথে চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের সাথে তালেবানের সমঝোতায় আসার কথা থাকলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

সমঝোতায় না পৌঁছানোর জেরে তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট ১ম প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী যারানজ দখল করে তারা।

যারানজ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ১০ দিনের মাথায় ১৫ আগস্ট ( রোববার ) কাবুল দখল করে তালেবান যোদ্ধারা। তথ্যসূত্র : বিবিসি।

এইচএন