ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভা গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নন।

মার্কিন গণতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রায় ৩২ কোটি জনগণের ৫৩৮ জন প্রতিনিধি বা ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে থাকেন। 


আজ সোমবার প্রতিটি রাজ্যে তাদের ইলেক্টররা প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে একত্রিত হচ্ছেন। তাদের ভোটের ফলাফলই চূড়ান্ত।

সাংবিধানিকভাবে ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্যরা জনগণের ইচ্ছানুযায়ী ভোট দিতে বাধ্য নন। তাই দলের সঙ্গে বেইমানি করে রাজ্যের পপুলার ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ভোট না দিয়ে অন্য কাউকে সমর্থন দিতে পারেন।

এদেরকে বলা হবে ‘ফেইথলেস ইলেক্টর’ বা বেইমান নির্বাচক। অতীতে এমন কিছু ফেইথলেস ইলেক্টরের দেখা মিললেও তাতে মূল ফল পরিবর্তন হয়নি।

এবার কি ইতিহাসের নজিরবিহীন ইলেক্টোরাল বেইমানি ঘটতে পারে? তাতে কী হবে ট্রাম্পের ভাগ্যে?

সম্ভাব্যতা-১ : সবকিছু ঠিকঠাক মতোই কাজ করবে এবং ট্রাম্প জয়ী হবেন

৮ নভেম্বর ১৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সব রাজ্যের ফল শেষে ট্রাম্পের তুলনায় হিলারি ক্লিনটন প্রায় ৩০ লাখ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ‘উইনার টেক অল’ (বিজয়ী দল রাজ্যের সবকটি ইলেক্টোরাল ভোটের অধিকারী হবেন) রীতি অনুযায়ী দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে অল্প ব্যবধানে জিতে রিপাবলিকান দল ইলেক্টোরাল ভোটে বাজিমাত করেছে।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী ট্রাম্প ৩০৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন। আর হিলারি ২৩২। ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজন ২৭০টি। সেই হিসাবে অতীতের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। আগামী ৩ জানুয়ারি কংগ্রেসের অধিবেশনে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের ফলাফল উপস্থাপন করা হবে।

সম্ভাব্যতা-২ : রিপাবলিকান ইলেক্টরদের বেইমানিতে হিলারির জয়

রিপাবলিকান দলের ৩৮ জন ইলেক্টর যদি দলের সঙ্গে বেইমানি করে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেন, তবে নজিরবিহীন ইতিহাস তৈরি হবে। তবে এটার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। কারণ দলের বিশ্বস্ত লোকেরাই ইলেক্টর হিসেবে মনোনীত হন। আর একসঙ্গে এতজন ইলেক্টরের বেইমানি করার আশা দুরূহ।

সম্ভাব্যতা-৩ : কেউই প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোট পাবেন না

ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা হিলারি ক্লিনটন কাউকেই পছন্দ না করে বিদ্রোহ করতে পারেন রিপাবলিকান ইলেক্টররা। এক্ষেত্রে তারা তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন অথবা ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে ২৯টি রাজ্যে বিদ্রোহী ইলেক্টরদের জন্য জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে সেসব পরোয়া না করে সত্যিই যদি এমন ঘটনা ঘটে আর হিলারি বা ট্রাম্প কেউই প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট না পান, সেক্ষেত্রে কি ঘটবে? এমন অচলাবস্থা কাটাতে নিয়মানুযায়ী কয়েকটা ধাপে অগ্রসর হতে হবে।

এক্ষেত্রে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ প্রেসিডেন্ট ও সিনেট ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে।

প্রথমত, কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ সদস্যরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেবেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্যের প্রতিনিধি একটি করে ভোট দিতে পারবেন। যিনি কমপক্ষে ২৬ রাজ্যের প্রতিনিধির ভোট জিততে পারবেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

দ্বিতীয়ত, এই ভোটেও কোনো প্রার্থী যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পান, তবে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বারবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যন্ত একই রকম অচলাবস্থা থাকলে সিনেট নির্বাচিত নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্যদিকে সিনেটের মাধ্যমে নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ১০০ সিনেট সদস্যের মধ্যে ৫১ জনের সমর্থন লাগবে। যদি এক্ষেত্রে ৫০-৫০ পরিস্থিতি হয়,

তবে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বারবার ভোটগ্রহণ হবে। তাতেও সমাধান না হলে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট একটি সিদ্ধান্তের ভোট দিয়ে নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন।

মাহমুদ