রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত শত শত গ্রাম একের পর এক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
এতে রাখাইন প্রদেশের কমপক্ষে ১০টি এলাকা আগুণ ধরিয়ে পুরিয়ে দেয়া হয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। আবার তাদের ঘরবাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার যে অভিযোগ করছে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিতে এর মিল পাওয়া গেছে।
এসব ছবি থেকে রাখাইনের অন্তত দশটি জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায় এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যেসব জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তা একশ’ কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত। যা গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যেসব জায়গায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অগ্নিসংযোগ করেছিল তার চেয়েও পাঁচগুণ বেশি। ওই সময় স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এক হাজার পাঁচশ ভবন আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার তথ্য বের করেছিল এইচআরডব্লিউ।
আগুনে পোড়া ওই এলাকা পরিদর্শনে যেতে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের যেতে দিতেও দাবি করেছে এ সংগঠনটি। পাশাপাশি বলা হয়েছে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসী ও অধিকারকর্মীরা নিরস্ত্র নারী, শিশু, পুরুষের ওপর বাছবিচারহীনভাবে গুলি চালানোর জন্য অভিযুক্ত করছে সেনাবাহিনীকে। বলা হচ্ছে, তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে সব। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, শুক্রবার শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোরে সেখানে ৩০টি চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি। মিয়ানমার সরকার বলেছে, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইকালে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থি সন্ত্রাসীরা। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা দায়ী করছে সেনাবাহিনীকে। সেনাবাহিনী বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড- চালাচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
মিয়ানমারের অত্যাচার থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা ছুটছে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু এখানেও বাধার সম্মুক্ষিণ হচ্ছেন তারা। জিরো পয়েন্টে অনুপ্রবেশের জন্য অবস্থানকারী রোহিঙ্গা জানান, এখানেও বিজিবি বাধার মুখে রয়েছি। বর্তমানে অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছি। একদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন, অন্যদিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা রোহিঙ্গাদের শেষ আশ্রয়স্থল কোথায়?
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাথে কথার বলার সময় অন্যান্য রোহিঙ্গা নারী-পুরুষরাও হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। সবার চুখে মুখে আহঙ্কের ছাপ।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংলগ্ন টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মিয়ানমার সীমান্তে রাতের বেলায় আরকান রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিকান্ডে আগুনের লেলিহান শিখা সীমান্ত এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে। রাতে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ভেসে আসছে।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ। পাশাপাশি তিনি পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এএইচ





